দেশের অন্যতম বৃহৎ সুপারশপ চেইন স্বপ্নের গ্রাহক ডেটাবেজে সাইবার হামলার ঘটনায় প্রায় ৪০ লাখ নিবন্ধিত গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে গ্রাহকদের নাম, মোবাইল নম্বর ও কেনাকাটার ইতিহাস রয়েছে। হামলাকারীরা তথ্য প্রকাশ ঠেকাতে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছিল বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট স্বপ্নের মূল প্রতিষ্ঠান এসিআই লজিস্টিকসের প্রধান কার্যালয়ের কম্পিউটার ব্যবস্থায় র্যানসমওয়্যার হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে কর্মীদের লক্ষ্য করে ক্ষতিকর লিংকযুক্ত ফিশিং ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। র্যানসমওয়্যার এমন এক ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার, যা কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কের তথ্য আটকে দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতে পারে।
হামলার পর প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি দল আক্রান্ত সিস্টেম বিচ্ছিন্ন করে ম্যালওয়্যার অপসারণের উদ্যোগ নেয়। তবে পরবর্তী সময়ে চুরি হওয়া তথ্যের কিছু অংশ অনলাইনে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ LockBit 5.0 নামের সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত ডার্ক ওয়েব পোর্টালে ৪১০ গিগাবাইটের বেশি তথ্য প্রকাশের কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে শুধু গ্রাহকদের ব্যক্তিগত বিবরণই নয়, সরবরাহকারীদের তথ্য, ব্যবসায়িক চুক্তি, দৈনিক বিক্রির হিসাব, ব্যাংকে অর্থ জমার বিবরণ, মানবসম্পদ-সংক্রান্ত নথি এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালাও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব তথ্যের অপব্যবহার হলে গ্রাহকদের গোপনীয়তার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসিরের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের আগস্টে হ্যাকারদের কাছ থেকে ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়ে বার্তা পেয়েছিল। তবে ঠিক কতজন গ্রাহকের তথ্য আক্রান্ত হয়েছে এবং কী পরিমাণ তথ্য চুরি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
ঘটনার প্রায় সাত মাস পর, ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ এসিআই লজিস্টিকসের পক্ষ থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে বিষয়টি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ইউনিটে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় গ্রাহকদের জন্য প্রতারণামূলক ফোনকল, ভুয়া বার্তা ও লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিংয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই স্বপ্নের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত তথ্য, পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি চাইলে তা যাচাই না করে দেওয়া উচিত নয়। সন্দেহজনক লিংকেও প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ঘটনাটি বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহক-তথ্য সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, কর্মীদের ফিশিং প্রতিরোধী প্রশিক্ষণ, তথ্যের ব্যাকআপ এবং দ্রুত হামলা শনাক্তের ব্যবস্থা এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।








০ টি মন্তব্য