আগামী দিনে পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের সংখ্যা। এসব প্রযুক্তি শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কিংবা নির্দেশ পালন করবে না, বরং মানুষের হয়ে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা, ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা এবং নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আর্থিক লেনদেনও করতে পারবে। এমন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন ভবিষ্যৎবিষয়ক বিশ্লেষক মাইক ওয়ালশ।
২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এআই সহকারীর বর্তমান ব্যবহার ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তনের প্রাথমিক ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী এক দশকে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভারতও গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ওয়ালশের ধারণা, ভবিষ্যতের এআই এজেন্টগুলো ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। এমনকি ব্যবহারকারীর নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রতিবার সরাসরি অনুমতি না নিয়েও ছোট অঙ্কের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। এতে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কাজে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে।
চাকরির আগেই ডিজিটাল কর্মী নিয়োগের সুযোগ
এআই এজেন্টের বিস্তার তরুণদের প্রচলিত শিক্ষা ও কর্মজীবনের ধারণায় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করেন ওয়ালশ। এ বিষয়ে তিনি ভারতের এক মেধাবী কিশোরীর উদাহরণ তুলে ধরেন। তার সামনে একদিকে রয়েছে নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ার সুযোগ, অন্যদিকে এআই এজেন্টের সহায়তায় নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবসা গড়ে তোলার সম্ভাবনা।
ওয়ালশের কল্পিত উদাহরণে, এআই এজেন্টগুলো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি, সফটওয়্যারের প্রাথমিক সংস্করণ প্রস্তুত এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করতে পারে। ফলে সীমিত সম্পদ নিয়ে একজন তরুণ উদ্যোক্তার পক্ষে ব্যবসা শুরু করা আগের তুলনায় সহজ হতে পারে।
তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে অনেক তরুণ প্রথম চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই নিজেদের কাজে সহায়তার জন্য ডিজিটাল কর্মী হিসেবে এআই এজেন্ট ব্যবহার করতে পারে। তবে এ ধরনের সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হবে, তা প্রযুক্তির সক্ষমতা, ব্যয় ও ব্যবহারকারীদের আস্থার ওপর নির্ভর করবে।
এআই নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি সম্ভাবনাও রয়েছে
এআইয়ের অগ্রগতি নিয়ে বর্তমানে কর্মসংস্থান হারানো, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ডেটা সেন্টার পরিচালনায় পানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।
ওয়ালশের মতে, এআই নিয়ে আলোচনায় সম্ভাব্য সংকটের পাশাপাশি আরেকটি দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন। তা হলো জ্ঞান, দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার সহজলভ্যতা। উন্নত প্রযুক্তি যদি আরও বেশি মানুষের নাগালে আসে, তাহলে ব্যক্তি ও ছোট প্রতিষ্ঠানও এমন কিছু কাজ করার সুযোগ পেতে পারে, যেগুলোর জন্য আগে বড় দল, বেশি অর্থ কিংবা বিশেষজ্ঞ জনবল প্রয়োজন হতো।
তবে এআই এজেন্টের সংখ্যা মানুষের চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসটি এখনো একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎচিত্র, নিশ্চিত বাস্তবতা নয়। প্রযুক্তির উন্নয়ন, ব্যবহার এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সক্ষমতার ওপর এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা, মানুষের নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব মোকাবিলাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, এআই এজেন্টের বিস্তার ভবিষ্যতে শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজের ধরন বদলে দিতে পারে। তবে এই পরিবর্তন মানুষের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং এর সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর।









০ টি মন্তব্য