বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে টেসলার রোডস্টার। বিশেষ রকেট থ্রাস্টার প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটিকে মাটি থেকে ওপরে ওঠানো এবং মাঝ-আকাশে ভারসাম্য ধরে রাখার সক্ষমতা দেখানো হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তি যতটা আকর্ষণীয়, এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
টেসলার পরিকল্পিত রোডস্টারের বিশেষ সংস্করণে স্পেসএক্সের প্রযুক্তির আদলে সর্বোচ্চ ১০টি থ্রাস্টার যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিশেষ ‘রকেট’ সংস্করণটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সরাসরি বাজারজাত করা হবে না; নির্বাচিত ব্যক্তিদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
কীভাবে বাতাসে উঠবে গাড়িটি?
প্রযুক্তিটির মূল ভিত্তি হলো উচ্চচাপে বাতাস সংরক্ষণ এবং তা দ্রুত বাইরে বের করে দেওয়া। এ কাজে ব্যবহার করা হবে কার্বন ফাইবার ওভারর্যাপড প্রেসার ভেসেল বা সিওপিভি নামের বিশেষ ট্যাংক। এসব ট্যাংকে উচ্চচাপে বাতাস জমা রাখা হবে। পরে কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টারের মাধ্যমে বাতাস বের করে দিলে বিপরীত দিকে বল সৃষ্টি হবে। উপরের দিকে বল প্রয়োগ করে গাড়িটিকে মাটি থেকে তোলার ধারণা রয়েছে।
প্রচলিত রকেট ইঞ্জিনের মতো এখানে জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি তৈরির প্রয়োজন হয় না। স্পেসএক্সও বিভিন্ন মহাকাশযান ও রকেটের কাজে এ ধরনের থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তবে গাড়িতে এই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
নিরাপত্তা নিয়ে কেন উদ্বেগ?
থ্রাস্টারের শক্তিশালী বাতাসের প্রবাহ আশপাশের মানুষ ও যানবাহনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এর ধাক্কায় মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি রাস্তার ধুলাবালু, পাথর বা ছোট বস্তু ছিটকে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। কাছাকাছি থাকা গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
এ ছাড়া গাড়িটি উড্ডয়নের পর কতক্ষণ বাতাসে থাকতে পারবে, কীভাবে নিরাপদে অবতরণ করবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে চালককে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। প্রদর্শনীতে গাড়ির উড্ডয়নসদৃশ কৌশল দেখা গেলেও তা দীর্ঘ সময় আকাশে চলাচলের সক্ষমতা প্রমাণ করে না।
টেসলার ওয়েবসাইটে রকেট সংস্করণটিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সড়কে চলাচলের জন্য অননুমোদিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে বাস্তব পরিবহনে ব্যবহৃত হবে কি না, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর।
সব মিলিয়ে, টেসলার উড়ন্ত গাড়ির ধারণা ভবিষ্যতের পরিবহনব্যবস্থা নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে সাধারণ সড়কে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে যাত্রী, পথচারী এবং আশপাশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।










০ টি মন্তব্য