কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকার বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউএফটি) শুরু হয়েছে ‘বিইউএফটি জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬’। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন ৭ ও ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘Empowering the Next Generation with AI: Entrepreneurship, Innovation, and Sustainable Digital Transformation’। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ব্যবসা ও সমাধান তৈরি করতে সক্ষম উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিইউএফটি বিজনেস ক্লাব ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মেলায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের বাস্তব ব্যবসায়িক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করা এবং একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তব ধারণা দেওয়া।
মেলার উদ্বোধনী আয়োজনে বিইউএফটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মেসবা উদ্দিন আলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শেখ আবদুর রহিমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দারাজ এক্সপ্রেস, রাজিব ইঞ্জিনিয়ারিং, এভারকেয়ার হাসপাতালস বাংলাদেশ এবং ডাবর বাংলাদেশের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ফলে মেলাটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আয়োজন না হয়ে শিক্ষার্থী ও শিল্প খাতের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে তথ্য বিশ্লেষণ, কনটেন্ট তৈরি, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাহকসেবা ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা অর্জন করলেই ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। এআই টুল ব্যবহার, ডেটা বিশ্লেষণ, অটোমেশন এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক ব্যবসায়িক চিন্তার মতো দক্ষতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে। মেলার আয়োজন সেই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার চেষ্টা করছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এআইভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দ্রুত বাড়ছে। একটি ছোট দল বা এমনকি একজন উদ্যোক্তাও এখন এআই ব্যবহার করে সফটওয়্যার, ওয়েব অ্যাপ, ডিজিটাল কনটেন্ট, মার্কেটিং সেবা বা ব্যবসায়িক অটোমেশন তৈরি করতে পারেন। এর ফলে আগের তুলনায় প্রযুক্তি ব্যবসা শুরু করার প্রাথমিক খরচ কিছু ক্ষেত্রে কমেছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু টুল শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; কোন বাস্তব সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে, ব্যবহারকারী কেন সেই সেবা ব্যবহার করবেন এবং ব্যবসাটি কীভাবে টেকসই হবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
মেলার প্রতিপাদ্যে ‘sustainable digital transformation’-এর বিষয়টি যুক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এআই ব্যবহার করে দ্রুত একটি পণ্য তৈরি করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে সেটি সফল করতে হলে তথ্যের নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা, নির্ভুলতা এবং ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মেলায় শিক্ষার্থীরা শিল্প খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে কাজ এবং উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবরও বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা ও ডিজিটাল প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে এআইভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অর্থনীতি, ব্যবসা, ডিজাইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কাজ করলে স্থানীয় সমস্যার জন্য নতুন প্রযুক্তি সমাধান তৈরি হতে পারে। বিইউএফটির এই আয়োজন সেই আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতার একটি সম্ভাব্য মডেল তৈরি করছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সময়ে শিক্ষার্থীদের শুধু এআই ব্যবহারকারী নয়, বরং এআইনির্ভর নতুন ব্যবসা ও সেবা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করাই হতে পারে আগামী দিনের বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।











০ টি মন্তব্য