কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে গুগলের তৈরি এআই চিপ কেনার পরিকল্পনা করছে ওপেনএআই—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশন। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তির বরাতে এ সম্ভাব্য উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি, আর্থিক শর্ত বা চিপের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। গুগল তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি এবং ওপেনএআইও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে বিষয়টিকে নিশ্চিত সম্পন্ন ক্রয়চুক্তি নয়, বরং প্রতিবেদনভিত্তিক সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
বর্তমানে উন্নত এআই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন। বড় ভাষা মডেল প্রশিক্ষণ, ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর তৈরি, ছবি বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট পরিচালনার মতো কাজে বিশেষায়িত প্রসেসর ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে এনভিডিয়ার গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা GPU দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ওপেনএআইও তাদের মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য এনভিডিয়ার চিপের বড় ক্রেতাদের একটি।
অন্যদিকে গুগল তৈরি করেছে টেনসর প্রসেসিং ইউনিট বা TPU। এগুলো বিশেষভাবে এআই গণনার জন্য তৈরি। মডেল প্রশিক্ষণ এবং ব্যবহারকারীদের কাছে এআই সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের চিপ বিকল্প অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। চিপের কার্যক্ষমতা, বিদ্যুৎ ব্যবহার, সরবরাহের সময় এবং পরিচালন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে কোন অবকাঠামো কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য বেশি উপযোগী হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই ২০২৫ সাল থেকেই গুগলের এআই চিপ ভাড়া নিয়ে ব্যবহার শুরু করেছিল। এখন সরাসরি চিপ কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গুগলের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে এআই পণ্য ও সার্চ প্রযুক্তির বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী। তা সত্ত্বেও কম্পিউটিং অবকাঠামোর মতো ক্ষেত্রে একে অন্যের গ্রাহক বা সরবরাহকারী হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
গুগলের চিপ ব্যবহারের আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হলো এআই কম্পিউটিংয়ের সরবরাহব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় করা। একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থাকলে চিপের ঘাটতি, মূল্যবৃদ্ধি কিংবা সরবরাহে বিলম্ব হলে মডেল উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হতে পারে। একাধিক ধরনের প্রসেসর ব্যবহার করতে পারলে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত অবকাঠামো নির্বাচন করতে পারে। তবে ভিন্ন চিপে একই মডেল চালাতে সফটওয়্যার ও অবকাঠামোগত অভিযোজন প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এআই অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট চলতি বছরে সম্মিলিতভাবে ৬০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে—এই বিপুল ব্যয় ভবিষ্যতে কতটা আয় ও মুনাফায় রূপান্তরিত হবে।
ওপেনএআই নিজস্ব এআই চিপ তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে। ব্রডকমের সঙ্গে তৈরি তাদের কাস্টম প্রসেসর ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ব্যবহারে আনার পরিকল্পনার কথা আগে জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। গুগলের চিপ কেনার সম্ভাব্য পরিকল্পনা এবং নিজস্ব চিপ উন্নয়নের উদ্যোগ পাশাপাশি চললে ভবিষ্যতে এআই অবকাঠামোর জন্য একাধিক সরবরাহপথ তৈরি হতে পারে।
তবে চুক্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এর আর্থিক প্রভাব বা বাজারে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। বাস্তবায়িত হলে এই উদ্যোগ এআই চিপ বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে এবং বড় মডেল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা নিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কৌশলগত সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে।










০ টি মন্তব্য