https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

ডিভাইস আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে যেতে হবে: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

ডিভাইস আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে যেতে হবে: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ডিভাইস আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে যেতে হবে: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত তিনদিনব্যাপী “ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬” এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে একথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ডিভাইস আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে যেতে পারলেই প্রকৃত সাফল্য আসবে। এ লক্ষ্য অর্জনে নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, ব্যাটারি শিল্প ও মোবাইল উৎপাদনে শুল্ক কমানোর মতো সফল নীতিগত উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে কমপিউটার উৎপাদন সহজ করতে সরকার ও ব্যবসায়ীদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। 

ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নীতিগত সহায়তার ফলে সরকারের রাজস্ব কীভাবে বাড়বে—সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যবসায়িক কেস উপস্থাপন করলে সরকার আরও সহনশীল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

দেশে ডিভাইস বাজারের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, স্মার্টফোন পেনিট্রেশন মাত্র ৪৫ শতাংশ, ল্যাপটপ ১০ শতাংশ এবং ট্যাবলেট ২–৫ শতাংশ। তরুণ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত বাংলাদেশে এই বাজার আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।

২০২৩০ সালের মধ্যে সব স্কুলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ডিজিটাল লার্নিং নিশ্চিত করার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এজন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য ডিভাইস নিশ্চিত করা জরুরি। কিস্তিতে ডিভাইস বিক্রি, ই-কমার্সে আস্থা ফেরানো এবং ডেলিভারি অথেন্টিকেশন ব্যবস্থার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ সহকারী আরও বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশ, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ, এআই ও ক্লাউড পলিসিসহ প্রয়োজনীয় ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কাঠামো ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো।

সরকার–ব্যবসা–একাডেমিয়ার সমন্বয়ে বাংলাদেশ শুধু ডিভাইস আমদানিকারক নয়, ভবিষ্যতে ডিভাইস উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, “আইসিটি ডিভিশন, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি ও বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপোতে এক্সিবিশনের পাশাপাশি সেমিনার, আলোচনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, সরকার–ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়ার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ট্রান্সফর্মড বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান, এফসিএম‌এ দেশীয় দক্ষ এক্সপার্ট ও উদ্ভাবনকে আরও উৎসাহিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটালাইজেশন ও কার্যকর নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান সম্ভব। মানবসম্পদই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা সঠিকভাবে কাজে লাগালে দেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর করা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন,

দীর্ঘদিন পর আইসিটি সেক্টরে এ ধরনের আয়োজন খাতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এই আয়োজন ঢাকা কেন্দ্রিক না রেখে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা “Governance without Government” দর্শনের কথা তুলে ধরে বলেন, আইসিটির মাধ্যমে দৃশ্যমান সরকার ছাড়াই কার্যকর সেবা নিশ্চিত করাই হবে ভবিষ্যৎ লক্ষ্য। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান।

অনুষ্ঠানে প্লাটিনাম ও গোল্ড স্পন্সরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিকমিউটিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মামুনুর রশীদ, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আসলাম হোসেন, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চেীধুরী, টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আশরাফ হোসেন সহ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রির ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দপ্তর সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এক্সপো ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।  এক্সপোতে দেশীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন, ডিজিটাল ডিভাইস, স্মার্ট সল্যুশন ও উদীয়মান প্রযুক্তির নানা দিক তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি শিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা দেশবাসীর সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কার জিতে নেন শ্যাওমি, লিনেভো এবং টিপি লিংক। সেরা স্টল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ড্রিমটেক, জিনিউ, স্কার্টের লি.।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।