প্রযুক্তির অগ্রগতিতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে বিশ্বের নানা ক্ষেত্র। এর প্রভাব পড়েছে খেলাধুলার অঙ্গনেও। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার খেলাটিকে আরও আকর্ষণীয় ও নির্ভুল করে তুলেছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ৫টি প্রযুক্তি।
১. রেফারিদের বডি ক্যামেরা
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো রেফারিদের শরীরে বিশেষ ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দর্শকরা মাঠের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো রেফারির চোখে দেখতে পারছেন। গোল, ফাউল কিংবা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সময় রেফারি কী দেখেছেন, তা সরাসরি সম্প্রচারে তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি ত্রিমাত্রিক (3D) অ্যানিমেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে অফসাইডসহ জটিল সিদ্ধান্তগুলো আরও সহজে বোঝানো হচ্ছে।
২. ডিজিটাল সাবস্টিটিউশন ও আউট-অফ-বাউন্ডস প্রযুক্তি
গোল-লাইন প্রযুক্তির পর এবার যুক্ত হয়েছে আউট-অফ-বাউন্ডস সিস্টেম। এর মাধ্যমে বল মাঠের সীমানা অতিক্রম করেছে কি না, তা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যায়। এছাড়া খেলোয়াড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কাগজের পরিবর্তে ডিজিটাল সাবস্টিটিউশন ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তথ্য আদান-প্রদানকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করেছে।
৩. এআই ও ডেটা বিশ্লেষণ
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য ফিফা উন্নত ডেটা অ্যানালিটিকস সুবিধা চালু করেছে। ‘ফিফা এআই প্রো’ নামের এই প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ম্যাচের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোচ ও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরামর্শ দিতে সক্ষম।
৪. অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা বল
প্রতিটি বিশ্বকাপের মতো এবারও নতুন নকশার অফিসিয়াল বল ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা’ নামের এই বলে মাত্র চারটি প্যানেল রয়েছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম। বিশেষ নকশা ও উন্নত উপকরণ ব্যবহারের ফলে বলের গতি ও নিয়ন্ত্রণ আরও উন্নত হয়েছে। বলের ভেতরে থাকা সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে শত শত ডেটা সংগ্রহ করে ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে পারে।
৫. থ্রি-ডি প্রিন্টেড ফুটবল বুট
ফুটবলারদের পারফরম্যান্স বাড়াতে এবার ব্যবহার করা হচ্ছে থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে তৈরি বিশেষ বুট। মেটাম্যাটেরিয়ালস দিয়ে নির্মিত এসব বুট হালকা, আরামদায়ক এবং বল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এই নকশা খেলোয়াড়দের আরও নিখুঁতভাবে শট নিতে সাহায্য করে।
আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ এখন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের এক অনন্য প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট








০ টি মন্তব্য