https://powerinai.com/

জেনেভা ডায়েরি ০১ :

এত এআইয়ের ভিড়ে আমি মানুষকে খুঁজছি

জেনেভা ডায়েরি ০১ : এত এআইয়ের ভিড়ে আমি মানুষকে খুঁজছি জেনেভা ডায়েরি ০১ : এত এআইয়ের ভিড়ে আমি মানুষকে খুঁজছি
 

 কালে প্যালেক্সপোর দিকে যেতে যেতে আমার মাথায় একটি প্রশ্ন ঘুরছিল।

এত এআই, এত রোবট, এত অ্যালগরিদমের মধ্যে মানুষটা কোথায়?

জেনেভায় এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির এক বিরাট সমাবেশ। জাতিসংঘের প্রথম গ্লোবাল ডায়ালগ অন এআই গভর্ন্যান্স শেষ হয়েছে। শুরু হচ্ছে এআই ফর গুড গ্লোবাল সামিট এবং ডব্লিউএসআইএস ফোরাম ২০২৬।

এআই ফর গুড গ্লোবাল সামিট এবং ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস)-এর বিভিন্ন আয়োজনে ১৬৯টি দেশ থেকে ১১ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দেন। এতে ১০০টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যাঁদের অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন উন্নয়নশীল দেশের প্রতিনিধি।

প্যালেক্সপোর ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে।

বড় বড় স্ক্রিন।

রোবট।

এআই এজেন্ট।

নতুন নতুন প্রযুক্তি।

ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস নিয়ে আলোচনা।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এআইয়ের চমৎকার সব সম্ভাবনা।

একজন উন্নয়নকর্মী হিসেবে এসব দেখে আশাবাদী না হয়ে উপায় নেই।

কিন্তু আমার দীর্ঘদিনের কাজ আমাকে আরেকটি অভ্যাস শিখিয়েছে।

কোনো নতুন প্রযুক্তি দেখলে আমি প্রথমে জিজ্ঞেস করি না, এটি কী করতে পারে। 

আমি জানতে চাই, এটি কার কাছে পৌঁছাবে?

জেনেভায় বসে ভোলার কথা মনে পড়ে

জেনেভার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মধ্যে দাঁড়িয়ে আমার কখনো কখনো ভোলার কথা মনে পড়ে।

কুড়িগ্রামের কথা মনে পড়ে।

সাতক্ষীরার উপকূলের কথা মনে পড়ে।

কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের ছোট একটি কক্ষের কথা মনে পড়ে, যেখানে একজন সম্প্রচারক স্থানীয় মানুষের ভাষায় ঘূর্ণিঝড়ের খবর জানাচ্ছেন।

সেই মানুষগুলোর হাতে হয়তো সর্বশেষ স্মার্টফোন নেই।

ইন্টারনেট সব সময় কাজ করে না।

ডেটা কেনার টাকাও সবার নেই।

অনেকে ইংরেজি পড়তে পারেন না।

তাহলে জেনেভায় আমরা যে এআই ভবিষ্যৎ তৈরি করছি, সেই ভবিষ্যতে তাদের জায়গা কোথায়?

একটি সুন্দর সম্মেলনকক্ষে বসে ‘এআই ফর অল’ বলা খুব সহজ।

কিন্তু ‘অল’ বা ‘সবাই’ শব্দটি আমার কাছে খুব কঠিন একটি শব্দ।

সবাই মানে শুধু অনলাইনে থাকা মানুষ নয়।

সবাই মানে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ নয়।

সবাই মানে শুধু শহরের দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয়।

সবাই মানে সেই মানুষও, যাঁর কণ্ঠ কোনো ডেটাসেটে নেই।

যাঁর ভাষা এআই ঠিকমতো বোঝে না।

যাঁর জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, কিন্তু যিনি জানতেই পারবেন না কীভাবে সেই সিদ্ধান্ত তৈরি হলো।

গ্লোবাল ডায়ালগে একটি অস্বস্তি সঙ্গে ছিল

জাতিসংঘের প্রথম গ্লোবাল ডায়ালগ অন এআই গভর্ন্যান্সে অংশ নিয়ে আমি অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুনেছি।

বিজ্ঞানীরা ঝুঁকির কথা বলেছেন।

নীতিনির্ধারকেরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা বলেছেন।

নাগরিক সমাজ অন্তর্ভুক্তির কথা বলেছে।

সবই প্রয়োজনীয়।

তবু আমার মনে একটি অস্বস্তি ছিল।

আমরা যাদের নিয়ে কথা বলছি, তারা কোথায়?

বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষ।

গ্রামীণ নারী।

স্থানীয় সাংবাদিক।

ছোট কৃষক।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

নিজের মাতৃভাষায় ডিজিটাল সেবা না পাওয়া মানুষ।

তারা আমাদের আলোচনার বিষয়।

কিন্তু তারা কি আলোচনার অংশ?

এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে।

আমি কমিউনিটি মিডিয়া নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটি বিষয় বহুবার দেখেছি।

মানুষের জন্য তৈরি সমাধান এবং মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি সমাধান এক নয়। 

প্রথমটিতে আমরা ধরে নিই, মানুষের কী প্রয়োজন আমরা জানি।

দ্বিতীয়টিতে আমরা আগে শুনি।

এআই গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে বিশ্ব এখনো সম্ভবত শোনার চেয়ে বলছে বেশি।

‘ভয়েস’ শব্দটি নিয়েও আমার আপত্তি আছে

আন্তর্জাতিক উন্নয়নের জগতে আমরা প্রায়ই বলি, প্রান্তিক মানুষকে ভয়েস দিতে হবে।

এই বাক্যটি শুনলে আমার অস্বস্তি হয়।

মানুষের কণ্ঠ আগে থেকেই আছে।

সমস্যা হলো, ক্ষমতার কেন্দ্র সেই কণ্ঠ শোনে না।

বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিওর সঙ্গে আমার দীর্ঘ পথচলায় দেখেছি, একজন গ্রামীণ নারী যখন নিজের ভাষায় নিজের সমস্যা বলেন, তখন তাঁকে ‘কণ্ঠ দেওয়া’ হয় না।

বরং একটি ব্যবস্থা প্রথমবার তাঁর কথা শোনে।

এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োজন।

আমরা কি স্থানীয় মানুষকে শুধু এআই সম্পর্কে সচেতন করব?

নাকি তাঁদের অভিজ্ঞতা প্রযুক্তির নকশায় নিয়ে আসব?

তাঁদের ভাষা কি মডেলে থাকবে?

তাঁদের ঝুঁকি কি নিরাপত্তা পরীক্ষায় বিবেচিত হবে?

তাঁদের ক্ষতি হলে কি প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকলে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই’ কথাটি আমার কাছে অসম্পূর্ণ।

এআইয়ের ভুল কার জীবনে বেশি লাগে?

জেনেভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা শুনতে শুনতে আরেকটি প্রশ্ন মনে হয়।

একটি এআই ব্যবস্থা ভুল করলে কার কী হয়?

একজন ধনী মানুষ ভুল এআই পরামর্শ পেলে হয়তো অন্য সেবা কিনতে পারবেন।

একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি ভুল ডিজিটাল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন।

কিন্তু একজন দরিদ্র নারী?

একজন শরণার্থী?

একজন স্থানীয় সাংবাদিক?

একজন মানবাধিকারকর্মী?

প্রযুক্তির ভুল সবাইকে সমানভাবে আঘাত করে না।

সমাজে যার ক্ষমতা কম, প্রযুক্তির ভুলের মূল্য অনেক সময় তাকেই বেশি দিতে হয়।

এ কারণেই আমি বারবার ‘ডিজিটাল সেফ সিস্টেম’ পদ্ধতির কথা ভাবছি।

আমরা ব্যবহারকারীকে সব সময় সতর্ক হতে বলি।

ভুল লিংকে ক্লিক করবেন না।

পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না।

এআইয়ের উত্তর যাচাই করুন।

এসব পরামর্শ অবশ্যই প্রয়োজন।

কিন্তু মানুষ ভুল করবে।

ক্লান্ত মানুষ ভুল করবে।

অল্পশিক্ষিত মানুষ ভুল করবে।

ব্যস্ত মানুষ ভুল করবে।

বিশ্বাসী মানুষ প্রতারণায় পড়বে।

একটি দায়িত্বশীল ব্যবস্থা সেই ভুলকে বিপর্যয়ে পরিণত হতে দেবে না।

আমার কাছে নিরাপদ ডিজিটাল ভবিষ্যৎ মানে শুধু সচেতন মানুষ নয়।

নিরাপদ ব্যবস্থা।

ডব্লিউএসআইএস আমাকে পুরোনো প্রশ্নে ফিরিয়ে নেয়

আমি বহু বছর ধরে ডব্লিউএসআইএস প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

আজ যখন এআই নিয়ে বিশ্ব এত উত্তেজিত, তখন ডব্লিউএসআইএসের পুরোনো আলোচনাগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।

মানুষকেন্দ্রিক তথ্যসমাজ।

অর্থবহ সংযোগ।

স্থানীয় কনটেন্ট।

ডিজিটাল দক্ষতা।

বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণ।

দুই দশক ধরে এসব প্রশ্ন আমরা করছি।

এখন এআই এসেছে।

কিন্তু পুরোনো সমস্যাগুলো তো যায়নি।

ইন্টারনেট বিভাজন আছে।

লিঙ্গ বৈষম্য আছে।

গ্রাম ও শহরের ব্যবধান আছে।

ভাষার বৈষম্য আছে।

এখন সেই অসম সমাজের ওপর আমরা এআই বসাচ্ছি।

তাই আমার ভয় হয়।

অসম ভিত্তির ওপর শক্তিশালী প্রযুক্তি বসালে প্রযুক্তি কি বৈষম্য কমাবে, নাকি বৈষম্যকে আরও দ্রুত করবে?

এ প্রশ্নের সহজ উত্তর আমার জানা নেই।

কিন্তু প্রশ্নটি না করাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

প্যালেক্সপোর করিডরে হাঁটতে হাঁটতে

আন্তর্জাতিক সম্মেলনের করিডরগুলো আমার কাছে সব সময় আকর্ষণীয়।

মঞ্চে মানুষ প্রস্তুত কথা বলেন।

করিডরে অনেক সময় আসল উদ্বেগ বেরিয়ে আসে।

কেউ বলছেন, তাঁদের দেশে কম্পিউটিং সক্ষমতা নেই।

কেউ স্থানীয় ভাষার ডেটা নিয়ে চিন্তিত।

কেউ শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছেন।

কেউ এআইয়ের কারণে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আবার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা অসাধারণ সম্ভাবনার কথা বলছেন।

আমি দুপক্ষের কথাই শুনি।

কারণ এআই নিয়ে শুধু ভয় দেখানোও ঠিক নয়।

এই প্রযুক্তি মানুষের জীবন বদলাতে পারে।

বাংলাদেশে কৃষককে সময়মতো তথ্য দিতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

স্থানীয় ভাষায় স্বাস্থ্য তথ্য পৌঁছে দিতে পারে।

প্রতিবন্ধী মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে পারে।

কিন্তু আমি একটি বিষয়ে সন্দিহান।

বাজারের যুক্তি কি নিজে থেকে নিশ্চিত করবে যে এই প্রযুক্তি প্রথমে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাবে?

ইতিহাস আমাকে খুব আশাবাদী হতে দেয় না।

জনস্বার্থে প্রযুক্তি পৌঁছাতে নীতি লাগে।

বিনিয়োগ লাগে।

নাগরিক চাপ লাগে।

এবং জবাবদিহি লাগে।

বাংলাদেশে ফিরে আমাদের কী প্রশ্ন করা উচিত?

জেনেভা থেকে বাংলাদেশকে দেখলে আমার মনে হয়, আমাদের এআই নিয়ে আলোচনা এখনো খুব প্রযুক্তিকেন্দ্রিক।

কোন টুল ব্যবহার করব?

কোন কোর্স করব?

কীভাবে উৎপাদনশীলতা বাড়াব?

এসব প্রশ্ন প্রয়োজন।

কিন্তু আরও বড় প্রশ্ন আছে।

বাংলাদেশের নাগরিকের ডেটা কে নিয়ন্ত্রণ করবে?

বাংলা ভাষার বাইরে আমাদের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর কী হবে?

সরকারি সিদ্ধান্তে এআই ব্যবহার হলে জবাবদিহি কীভাবে হবে?

কোনো অ্যালগরিদম ভুল করলে নাগরিক কোথায় অভিযোগ করবেন?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কি স্বাধীনভাবে এআই ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে পারবে? নাগরিক সমাজ কি শুধু সচেতনতা কর্মসূচি চালাবে, নাকি নীতি পর্যালোচনায় জায়গা পাবে?

এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তিক ও নীতিগত অবস্থান তৈরি করা প্রয়োজন।

শুধু প্রযুক্তি আমদানি করা কোনো জাতীয় কৌশল নয়।

রাতে ফিরে আমার মনে হয়

দিন শেষে হোটেলে ফিরলে আমি প্রায়ই নোটগুলো দেখি।

আজ কে কী বললেন।

কোন প্রযুক্তি দেখলাম।

কোন নতুন শব্দ শুনলাম।

কিন্তু সব নোটের নিচে একই প্রশ্ন ফিরে আসে।

মানুষটা কোথায়?

হয়তো এই প্রশ্নটি খুব পুরোনো।

প্রতিটি প্রযুক্তি বিপ্লবের সময় মানুষ এই প্রশ্ন করেছে।

তবু এআইয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি আরও জরুরি।

কারণ এই প্রযুক্তি শুধু আমাদের কাজের যন্ত্র নয়।

এটি ক্রমেই আমাদের তথ্য বাছাই করছে।

আমাদের ভাষা তৈরি করছে।

আমাদের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করছে।

কখনো আমাদের হয়ে সিদ্ধান্তও নিচ্ছে।

তাই এআই নিয়ে আলোচনা প্রযুক্তিবিদদের একার হতে পারে না।

জেনেভা থেকে আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা এটিই।

গ্লোবাল এআই ডায়ালগ প্রয়োজন ছিল।

এআই ফর গুড প্রয়োজন।

ডব্লিউএসআইএসও আগের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সম্মেলনই মানুষের হয়ে ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারবে না।

ভবিষ্যৎ ন্যায়সংগত হবে তখনই, যখন প্রযুক্তির টেবিলে শুধু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষেরা বসবেন না। সেখানে অনুপস্থিত মানুষের অভিজ্ঞতাও সিদ্ধান্তের অংশ হবে।

প্যালেক্সপোর উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তাই আমি প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ দেখার চেষ্টা করি।

আর একই সঙ্গে ভোলা, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা এবং বাংলাদেশের হাজারো গ্রামের মানুষের মুখ মনে করি।

আমি চাই এআই তাদের কাছে পৌঁছাক।

কিন্তু তার চেয়েও বেশি চাই, এআইয়ের ভবিষ্যৎ তৈরির সময় পৃথিবী যেন তাদের কথা শোনে।

এত এআইয়ের ভিড়ে আমি এখনো মানুষকেই খুঁজছি।

০৮ জুলাই ২০২৬, লে পোমিয়ে, গ্রঁ-সাকোনে, জেনেভা, সুইজারল্যান্ড








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।