https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

নিজের ঠিক করা লক্ষ্যেই কমবে স্মার্টফোনের আসক্তি, বলছে নতুন গবেষণা

নিজের ঠিক করা লক্ষ্যেই কমবে স্মার্টফোনের আসক্তি, বলছে নতুন গবেষণা নিজের ঠিক করা লক্ষ্যেই কমবে স্মার্টফোনের আসক্তি, বলছে নতুন গবেষণা
 

স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজ, যোগাযোগ থেকে শুরু করে বিনোদন—প্রায় সবকিছুতেই ফোনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে দিনের বড় একটি সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই কাটছে। অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরেই এ অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজছেন গবেষকেরা।

সম্প্রতি ভারত ও স্পেনের গবেষকদের যৌথ এক গবেষণায় স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় কমানোর একটি সহজ কৌশল সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্য কেউ সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার চেয়ে ব্যবহারকারী নিজেই নিজের জন্য স্ক্রিনটাইম কমানোর লক্ষ্য ঠিক করলে তা মেনে চলার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Social Science & Medicine সাময়িকীতে। গবেষকদের মতে, নিজের পছন্দ অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণের সুযোগ পেলে মানুষ ডিজিটাল স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি সচেতন ও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি নিজের নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রতি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতাও তৈরি হয়।

যেভাবে পরিচালিত হয় গবেষণা

গবেষণায় ১৪৯ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। ৩৫ দিন ধরে তাঁদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়েছিল।

প্রথম দলের ৫৫ জনকে নিজেদের স্ক্রিনটাইম ১০, ২০ অথবা ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দলের ৬২ জনকে নির্দিষ্টভাবে ১৪ শতাংশ স্ক্রিনটাইম কমানোর লক্ষ্য দেওয়া হয়। আর তৃতীয় দলের ৩২ জনকে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য দেওয়া হয়নি; শুধু তাঁদের ফোন ব্যবহারের তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়।

নিজের লক্ষ্যেই বেশি সাফল্য

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, নিজের লক্ষ্য নিজে নির্ধারণ করা অংশগ্রহণকারীরাই সবচেয়ে ভালো ফল করেছেন। তাঁরা প্রতিদিন গড়ে ৪৯ মিনিট স্ক্রিনটাইম কমাতে সক্ষম হন। অন্যদিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য দেওয়া দলের অংশগ্রহণকারীরা গড়ে ২৩ মিনিট ফোন ব্যবহার কমান।

নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা দলটি দৈনিক লক্ষ্য পূরণেও প্রায় ১১ শতাংশ বেশি সফল ছিল। বিপরীতে কোনো লক্ষ্য না থাকা নিয়ন্ত্রণ দলের সদস্যদের ফোন ব্যবহারের সময় কমার বদলে প্রতিদিন গড়ে ১১ মিনিট বেড়ে যায়।

গবেষণা শেষ হওয়ার পরও নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করা ব্যক্তিরা আগের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ মিনিট কম ফোন ব্যবহার চালিয়ে যান। নির্দিষ্ট লক্ষ্য পাওয়া দলের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ছিল প্রায় ১১ মিনিট।

কেন নিজের লক্ষ্য বেশি কার্যকর?

গবেষকদের ধারণা, নিজের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত লক্ষ্য মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও অভ্যন্তরীণ অনুপ্রেরণা তৈরি করে। ফলে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের তুলনায় নিজের তৈরি পরিকল্পনা অনুসরণ করা সহজ হয়।

গবেষণাটি সীমিতসংখ্যক মানুষের ওপর এবং তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের জন্য পরিচালিত হয়েছে। তাই এর ফলাফল আরও বড় পরিসরে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে এটি একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত কৌশল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।