https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

কমতে পারে মোবাইল কলের খরচ, সর্বনিম্ন রেট কমানোর উদ্যোগ বিটিআরসির

কমতে পারে মোবাইল কলের খরচ, সর্বনিম্ন রেট কমানোর উদ্যোগ বিটিআরসির কমতে পারে মোবাইল কলের খরচ, সর্বনিম্ন রেট কমানোর উদ্যোগ বিটিআরসির
 

মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বর্তমানে ভয়েস কলের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন ট্যারিফ বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ আরও কমানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। ফলে ভবিষ্যতে মোবাইলে কথা বলার খরচ কিছুটা কমতে পারে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে মোবাইল কলের দাম, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, কলড্রপ, ডাটা প্যাকেজ, সিম নিবন্ধন ও এনইআইআরসহ টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গ্রাহকদের প্রশ্নের উত্তর দেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

বর্তমানে কলের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ রেট কত?

গণশুনানিতে বিটিআরসি জানায়, বর্তমানে দেশে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন রেট প্রতি মিনিটে ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ রেট ২ টাকা। গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সর্বনিম্ন কলরেট কমানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।

জামালপুর থেকে অংশ নেওয়া এক গ্রাহক কলরেট কমানোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার দাবি জানান।

দুর্গম এলাকায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক বাড়ানোর উদ্যোগ

টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়ে বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিসুল আলম পারভেজ জানান, নির্ধারিত রোলআউটের বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি হাওর ও অন্যান্য দুর্গম অঞ্চলে নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার জন্য টেলিটক একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও মোবাইল সেবার মান ও নেটওয়ার্ক কাভারেজ আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।

বিদেশি ওটিপি পেতে দেরি হওয়ার কারণ

গণশুনানিতে একজন গ্রাহক মাস্কিং ছাড়া আসা এসএমএসের কারণে স্প্যাম বার্তা শনাক্তে সমস্যা এবং বিদেশি ওটিপি পেতে দেরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

জবাবে বিটিআরসি জানায়, ধাপে ধাপে সব ধরনের বার্তাকে মাস্কিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে বিদেশি ওটিপি পেতে মাঝে মাঝে বিলম্ব হতে পারে।

ডাটা প্যাকেজের শর্ত আরও স্পষ্ট করার নির্দেশ

মোবাইল ডাটা প্যাকেজের বিভিন্ন শর্ত ও বৈচিত্র্য নিয়েও গ্রাহকদের প্রশ্ন ছিল। এ বিষয়ে বিটিআরসি জানিয়েছে, প্রতিটি ডাটা প্যাকেজের শর্ত গ্রাহকদের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে মোবাইল অপারেটরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো প্যাকেজ কেনার আগে গ্রাহক যেন মেয়াদ, ডাটার পরিমাণ, ব্যবহারবিধি ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

বিদ্যুৎ চলে গেলেও নেটওয়ার্ক সচল রাখার ব্যবস্থা

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখার বিষয়টিও গণশুনানিতে উঠে আসে। বিটিআরসি জানায়, নেটওয়ার্ক সচল রাখার সক্ষমতা বাড়াতে একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সারাদেশের মোবাইল টাওয়ারগুলোর অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে কোথাও নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুত শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ে যা বলছে বিটিআরসি

মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ নিয়েও প্রশ্ন করেন গ্রাহকেরা। বিটিআরসি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে টাওয়ারের বিকিরণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়।

কমিশনের দাবি, এসব পরিমাপে বিকিরণের মাত্রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম পাওয়া গেছে। তাই বর্তমান মাত্রাকে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অভিযোগের ৮৬ শতাংশের বেশি নিষ্পত্তি

গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর বিষয়েও তথ্য দিয়েছে বিটিআরসি। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কমিশনের কাছে মোট ১৩ হাজার ৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৭৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা মোট অভিযোগের ৮৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।

তবে এই অগ্রগতিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় কমিশন। বাকি অভিযোগগুলোরও দ্রুত সমাধান করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতি মাসে হবে গণশুনানি

গণশুনানিতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর সংশোধিত ২০২৬ সালের ৮৭ ধারা অনুযায়ী এখন থেকে কমিশন প্রতি মাসে অন্তত একবার গণশুনানির আয়োজন করবে।

এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের সমস্যা, মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। গণশুনানি থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো কার্য-পর্যবেক্ষণ তালিকায় যুক্ত করে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এবারের গণশুনানিতে অংশ নিতে ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে ২ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার ১ হাজার ৪৭ জন, শিক্ষার্থী ৬৩৮ জন এবং নারী ১৭২ জন ছিলেন। গ্রাহকদের প্রশ্নের বড় অংশ ছিল কল ও ডাটা ট্যারিফ, ডাটার মেয়াদ, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, সিম নিবন্ধন, এনইআইআর ও টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিয়ে।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।