https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

AI-এর চাপে বাড়ছে RAM-এর দাম

AI-এর চাপে বাড়ছে RAM-এর দাম AI-এর চাপে বাড়ছে RAM-এর দাম
 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর দ্রুত প্রসারের প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে কম্পিউটারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান RAM-এর বাজারে। বিশ্বজুড়ে AI ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপের প্রয়োজন হওয়ায় বাড়ছে DRAM ও HBM-এর চাহিদা। এর ফলে মেমোরি নির্মাতারা উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ AI সার্ভার ও উচ্চক্ষমতার মেমোরির দিকে সরিয়ে দিচ্ছেন। এতে সাধারণ কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ভোক্তা ডিভাইসের জন্য ব্যবহৃত RAM-এর সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং দামও দ্রুত বাড়ছে।

RAM বা Random Access Memory কম্পিউটারের অস্থায়ী তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। কোনো সফটওয়্যার চালানো, একসঙ্গে একাধিক কাজ করা কিংবা ভিডিও এডিটিং ও গেমিংয়ের মতো ভারী কাজের ক্ষেত্রে RAM-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে RAM-এর দাম বাড়লে নতুন কম্পিউটার তৈরি থেকে শুরু করে পুরোনো কম্পিউটার আপগ্রেড—সব ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়।

বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ AI। আধুনিক AI মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য সাধারণ কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি মেমোরি প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বড় AI ডেটা সেন্টারে GPU ও অন্যান্য প্রসেসরের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ HBM এবং server DRAM ব্যবহার করা হচ্ছে। AI কোম্পানিগুলো বড় পরিসরে অবকাঠামো তৈরি করায় মেমোরি চিপের জন্য তাদের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

এখানে HBM বা High Bandwidth Memory গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি সাধারণ PC RAM-এর মতো একই পণ্য নয়, তবে একই বৃহৎ মেমোরি উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। AI accelerator ও GPU-তে উচ্চগতির HBM ব্যবহারের প্রয়োজন বাড়ায় নির্মাতাদের উৎপাদন সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। TrendForce জানিয়েছে, মেমোরি নির্মাতারা advanced-process capacity-এর একটি বড় অংশ high-performance server products-এর দিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ফলে conventional DRAM-এর বাজারও সরবরাহ সংকটের মুখে পড়ছে।

বিশ্বের বড় মেমোরি নির্মাতাদের মধ্যে Samsung, SK Hynix ও Micron রয়েছে। AI অবকাঠামোর জন্য উচ্চক্ষমতার মেমোরির চাহিদা বাড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ও বড় পরিবর্তন এসেছে। Samsung-এর সাম্প্রতিক প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির operating profit ১০৭.৪ ট্রিলিয়ন Korean won বা প্রায় ৮০.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই মুনাফা প্রায় নয় গুণ বেশি। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, AI-চিপের চাহিদা এবং শক্তিশালী memory sales এই প্রবৃদ্ধির বড় কারণ।

মেমোরির সরবরাহ ও চাহিদার এই ভারসাম্যহীনতার কারণে সাধারণ PC ব্যবহারকারীরাও সমস্যায় পড়ছেন। TrendForce-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে conventional DRAM-এর contract price আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে NAND Flash-এর contract price ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ RAM-এর পাশাপাশি SSD-এর বাজারেও মূল্যচাপ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, RAM ও SSD-এর দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু ক্রেতা নতুন পণ্যের পরিবর্তে used বা refurbished পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। অর্থাৎ বৈশ্বিক মেমোরি সংকটের প্রভাব শুধু বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি বাজারে সীমাবদ্ধ নেই; বাংলাদেশের সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরাও এর প্রভাব অনুভব করছেন।

RAM-এর দাম বাড়ার আরেকটি কারণ হলো নতুন উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো সহজ নয়। মেমোরি কারখানা স্থাপন, নতুন উৎপাদন প্রযুক্তি চালু এবং wafer capacity বাড়াতে বড় বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। ফলে AI ডেটা সেন্টারের চাহিদা যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, সেই গতিতে সরবরাহ বাড়ানো সবসময় সম্ভব হচ্ছে না। TrendForce-এর বিশ্লেষণেও দেখা যাচ্ছে, নতুন capacity পুরোপুরি বাজারে আসতে সময় লাগছে এবং AI infrastructure-এর কারণে server-side demand শক্তিশালী থাকছে।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ PC নির্মাতা ও ক্রেতারা তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন। বড় cloud service provider এবং AI প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মেমোরি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ বাজারের ক্রেতাদের জন্য সরবরাহের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং দাম বাড়ার চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। Reuters-এর বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, AI কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী চাহিদার কারণে smartphone ও computer নির্মাতারা বেশি memory cost-এর মুখোমুখি হচ্ছেন।

এই সংকটের প্রভাব শুধু RAM-এর দামেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। RAM ও storage-এর খরচ বাড়লে নতুন PC, laptop, smartphone এবং অন্যান্য electronic device তৈরির মোট উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে। ফলে নির্মাতারা ভবিষ্যতে বাড়তি খরচের একটি অংশ পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। ইতোমধ্যে মেমোরি খরচ বাড়ার প্রভাব consumer electronics শিল্পে দেখা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই মূল্যবৃদ্ধিকে শুধুমাত্র স্থানীয় বাজারের সমস্যা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। এর পেছনে রয়েছে বিশ্বজুড়ে AI অবকাঠামো তৈরির প্রতিযোগিতা। Google, Microsoft, Meta, Amazonসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং cloud service provider AI data center সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। এসব ডেটা সেন্টারে AI workload পরিচালনার জন্য GPU, HBM এবং server DRAM-এর প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে। ফলে AI-এর অগ্রগতির সঙ্গে সাধারণ কম্পিউটার মেমোরির বাজারও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে RAM-এর দাম দ্রুত কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং TrendForce-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকেও DRAM বাজারে সরবরাহের চাপ থাকবে এবং দাম আরও বাড়তে পারে। ২০২৭ সালেও AI-driven memory demand শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থাৎ AI এখন শুধু সফটওয়্যার, চ্যাটবট বা GPU-এর বাজার পরিবর্তন করছে না; এর প্রভাব পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের কম্পিউটারের RAM পর্যন্ত। যে AI প্রযুক্তি দ্রুততর কম্পিউটিংয়ের জন্য বিপুল মেমোরি ব্যবহার করছে, সেই চাহিদাই আবার সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য RAM-কে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে। ফলে বর্তমান RAM সংকটকে প্রযুক্তি বাজারে চলমান বৃহত্তর AI boom-এর অন্যতম সরাসরি প্রভাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।