https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনই প্রস্তুতির আহ্বান

কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনই প্রস্তুতির আহ্বান কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনই প্রস্তুতির আহ্বান
 

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অগ্রগতি ভবিষ্যতে প্রচলিত এনক্রিপশনব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সরকারি যোগাযোগব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে আগেভাগে প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পত্রিকাটি ও জাপানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Cipher Core Inc.-এর যৌথ গোলটেবিল আলোচনায় এ বিষয়ে গবেষণা সহযোগিতা, অভিযোজনযোগ্য নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং একটি জাতীয় রোডম্যাপ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রচলিত কম্পিউটারের মতো একই পদ্ধতিতে সব ধরনের হিসাব করে না। কোয়ান্টাম মেকানিকসের নীতির ভিত্তিতে তৈরি এই প্রযুক্তি নির্দিষ্ট ধরনের জটিল সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোয়ান্টাম কম্পিউটার বর্তমানে সব প্রচলিত এনক্রিপশন ভেঙে ফেলতে সক্ষম। ঝুঁকির মূল বিষয় হলো, ভবিষ্যতে যথেষ্ট শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি হলে বর্তমানে ব্যবহৃত কিছু ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে অনলাইন লেনদেন, গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, ডিজিটাল সেবা এবং আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনক্রিপশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইভাবে সরকারি দপ্তরের যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবার তথ্য, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ডিজিটাল ব্যবস্থায়ও নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান প্রয়োজন। ভবিষ্যতে কোনো প্রচলিত নিরাপত্তাপদ্ধতি দুর্বল হয়ে পড়লে সেসব ব্যবস্থা হালনাগাদ করতে সময় ও অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হলো, আক্রমণকারীরা এখনই এনক্রিপ্ট করা তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতে উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তির সাহায্যে তা বিশ্লেষণের চেষ্টা করতে পারে। সাইবার নিরাপত্তায় এ ধরনের আশঙ্কাকে সাধারণভাবে ‘হারভেস্ট নাও, ডিক্রিপ্ট লেটার’ বলা হয়। তবে বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য এভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে—এমন দাবি আলোচনার ভিত্তিতে করা যায় না। বিষয়টি সম্ভাব্য ঝুঁকির উদাহরণ।

এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে কোন কোন ব্যবস্থায় কী ধরনের এনক্রিপশন ব্যবহৃত হচ্ছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা। এরপর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সংরক্ষণকাল, সিস্টেমের হালনাগাদ করার সক্ষমতা এবং বিকল্প নিরাপত্তাপদ্ধতিতে স্থানান্তরের ব্যয় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিকভাবে পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি নিয়ে গবেষণা চলছে, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বিরুদ্ধেও নিরাপদ থাকার মতো পদ্ধতি তৈরি করা।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডিজিটাল ব্যাংকিং, অনলাইন সরকারি সেবা এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান তথ্য আদান-প্রদান ক্রমেই বাড়ছে। পুরোনো প্রযুক্তি একসঙ্গে পরিবর্তন করা ব্যয়বহুল হতে পারে। তাই ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ধারণ, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা প্রয়োজন।

তবে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের সব ডিজিটাল ব্যবস্থা বিপদে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি নেই। বিশেষজ্ঞদের আলোচনার মূল তাৎপর্য হলো, প্রযুক্তিটি ব্যাপকভাবে সক্ষম হয়ে ওঠার আগেই প্রস্তুতি শুরু করা। জাতীয় পর্যায়ে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা হালনাগাদের চাপ ও ব্যয় কমানো সম্ভব হতে পারে।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।