https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

এআই নিরাপত্তা গবেষণায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি ডলারের কম্পিউটিং সুবিধা দেবে এনভিডিয়া

এআই নিরাপত্তা গবেষণায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি ডলারের কম্পিউটিং সুবিধা দেবে এনভিডিয়া এআই নিরাপত্তা গবেষণায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি ডলারের কম্পিউটিং সুবিধা দেবে এনভিডিয়া
 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে গবেষণা জোরদার করতে যুক্তরাজ্যের গবেষকদের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি ডলার মূল্যের কম্পিউটিং সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া। ১৪ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সহায়তার লক্ষ্য বিশেষ করে এমন এআই এজেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা এগিয়ে নেওয়া, যেগুলো মানুষের নির্দেশে একাধিক ধাপের কাজ করতে পারে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। 

এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য উচ্চক্ষমতার প্রসেসর এবং বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন। গবেষণার অনেক ক্ষেত্রে একই পরীক্ষা বিভিন্ন পরিবেশে চালাতে হয়, মডেলের আচরণ বিশ্লেষণ করতে হয় এবং নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করার জন্য জটিল পরীক্ষা করতে হয়। পর্যাপ্ত কম্পিউটিং সুবিধা না থাকলে এসব পরীক্ষা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

এনভিডিয়ার ঘোষিত সহায়তায় বছরে প্রায় পাঁচ কোটি ডলার মূল্যের কম্পিউটিং সুবিধা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে অক্সফোর্ড-নেতৃত্বাধীন BOLD, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন-নেতৃত্বাধীন SOFAIR এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মতো গবেষণা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোন প্রকল্প কত পরিমাণ সুবিধা পাবে, তার পূর্ণাঙ্গ বণ্টন সম্পর্কে সব তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

এআই এজেন্টের নিরাপত্তা এখন প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় এজেন্টকে ই-মেইল পাঠানো, ফাইল সম্পাদনা, কোড চালানো কিংবা অনলাইন সেবার সঙ্গে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এ ধরনের সুবিধা কর্মদক্ষতা বাড়ালেও ভুল নির্দেশনা, অননুমোদিত প্রবেশাধিকার বা ক্ষতিকর ইনপুটের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

গবেষকদের জন্য একটি বড় কাজ হলো, এআই এজেন্টকে নির্দিষ্ট কাজের সীমার মধ্যে রাখা যায় কি না তা পরীক্ষা করা। কোনো এজেন্টকে শুধু নির্দিষ্ট ফাইল পড়ার অনুমতি দেওয়া হলে সেটি অন্য ফাইলে প্রবেশ করতে পারছে কি না, অথবা কোনো ওয়েবসাইট পরীক্ষা করার অনুমতি পেলে সেটি অন্য সিস্টেমে অননুমোদিত কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না—এসব বিষয় পরীক্ষা করা জরুরি। নিরাপত্তা গবেষণা এ ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং প্রতিরোধের উপায় উন্নত করতে সহায়তা করে।

কম্পিউটিং সুবিধা পাওয়ার ফলে গবেষকরা বড় মডেল পরীক্ষা, পুনরাবৃত্ত পরীক্ষা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা পরিস্থিতির তুলনামূলক মূল্যায়ন করতে পারবেন। তবে শুধু বেশি কম্পিউটিং শক্তি থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। পরীক্ষার মান, গবেষণার স্বাধীনতা, ফলাফল প্রকাশের সুযোগ এবং বাস্তব ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এনভিডিয়ার উদ্যোগটি এমন সময়ে এসেছে, যখন বিভিন্ন দেশে এআই নিরাপত্তা পরীক্ষার নিয়ম ও স্বাধীন মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রযুক্তি নির্মাতাদের নিজস্ব পরীক্ষা ছাড়াও বাইরের গবেষকদের মাধ্যমে মডেল মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। স্বাধীন পরীক্ষার মাধ্যমে এমন ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে, যা নির্মাতার অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ধরা পড়েনি।

বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষণীয়। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাইবার নিরাপত্তা, বাংলা ভাষার এআই, মডেল মূল্যায়ন এবং তথ্য সুরক্ষা নিয়ে গবেষণা বাড়াতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক অনুদানের পরিমাণকে বাংলাদেশের জন্য সরাসরি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা যাবে না। এই ঘোষণার আওতায় বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান সুবিধা পাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।