https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

দক্ষিণ এশিয়ায় ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) : প্রেক্ষাপট, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ

দক্ষিণ এশিয়ায় ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) : প্রেক্ষাপট, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ দক্ষিণ এশিয়ায় ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) : প্রেক্ষাপট, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ
 

১. ভূমিকা

বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো ডিজিটাল রূপান্তরকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করতে ডিজিটাল পাবললিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Digital Public Infrastructure—DPI)-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করছে। DPI এমন একটি ভিত্তিমূলক সক্ষমতা প্রদান করে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল পরিসরে পরিচয় যাচাই, পেমেন্ট, ডেটা বিনিময় এবং আন্তঃকার্যকারিতা (interoperability) প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। ডেটা সেন্টার বা টেলিকম টাওয়ারের মতো দৃশ্যমান “হার্ড” অবকাঠামোর তুলনায় DPI-এর “সফট” উপাদানগুলো কম দৃশ্যমান হলেও—দেশগুলোর ডিজিটাল সেবা বিস্তৃত ও মানসম্মত করতে এগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে অপরিহার্য হয়ে উঠছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ DPI ব্যবহার করে জনসেবার দক্ষতা ও পরিসর বৃদ্ধি এবং অধিকার/সুবিধা (entitlements) আরও সহজে জনগণের নিকট পৌঁছে দিতে পারে। একই সঙ্গে, DPI-এর ওপর ভিত্তি করে বেসরকারি খাত, ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও প্ল্যাটফর্ম প্রদানকারীরা উদ্ভাবনী সেবা ও সমাধান গড়ে তুলতে পারে—যা সেবার মান, গতি ও অন্তর্ভুক্তি উন্নত করে। তদুপরি, সীমান্ত-পার (cross-border) ব্যবহারক্ষেত্র একটি উদীয়মান ক্ষেত্র—যেখানে অর্থ, গ্রাহক তথ্য এবং অন্যান্য ডেটার নিরাপদ বিনিময় সহজ হলে মানুষ, পণ্য ও অর্থপ্রবাহ আরও নির্বিঘ্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়; ফলে আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাও শক্তিশালী হতে পারে।

২. DPI কী—কার্যগত সংজ্ঞা ও অবস্থান

বিশ্বব্যাংক DPI-কে জনস্বার্থে নকশাকৃত, খাতজুড়ে ডিজিটালায়নকে সহায়তা করার জন্য মৌলিক ডিজিটাল “বিল্ডিং ব্লক” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। DPI-কে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের একটি মধ্যবর্তী সফটওয়্যার স্তর হিসেবেও বোঝানো হয়—যা ভৌত অবকাঠামো (ইন্টারনেট সংযোগ, ডিভাইস, সার্ভার, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড) এবং সেবা-প্রদানকারী অ্যাপ্লিকেশন/প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সংযোগ রচনা করে, যাতে বিভিন্ন সেবা নিরাপদভাবে এবং বৃহৎ পরিসরে পরিচালিত হতে পারে।

৩. DPI ও DPGs—সম্পর্ক, পার্থক্য ও বাস্তব প্রয়োগ

ডিজিটাল পাবলিক গুডস (Digital Public Goods—DPGs) বলতে বোঝায় ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার, ওপেন ডেটা, ওপেন স্ট্যান্ডার্ড, ওপেন এআই সিস্টেম ও ওপেন কনটেন্ট—যেগুলো প্রযোজ্য আইন, গোপনীয়তা, “do no harm” নীতি এবং উত্তম চর্চার সাথে সামঞ্জস্য রেখে SDG অগ্রগতিতে সহায়তা করে।

DPGs ও DPI পরিপূরক, তবে এক নয়। DPGs অনেক সময় DPI-এর কম্পোনেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয় (যেমন ডেটাসেট, সফটওয়্যার বিল্ডিং ব্লক, প্রোটোকল, API), কিন্তু DPI প্রয়োজন অনুসারে প্রোপ্রাইটারি বা হাইব্রিড সমাধান দিয়েও নির্মিত হতে পারে—যদি তা ওপেন স্পেসিফিকেশন ও নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

DPGs অনেক ক্ষেত্রে DPI নির্মাণকে খরচ ও সময় কমিয়ে ত্বরান্বিত করে; একই সঙ্গে, DPGs DPI-এর ওপর অ্যাপ্লিকেশন/সমাধান হিসেবেও বসতে পারে (যেমন ট্রাফিক অ্যাপ, পাবলিক ম্যাপ), যা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন মেটায় এবং সিস্টেমের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

উদাহরণ হিসেবে MOSIP-এর মতো DPG বিভিন্ন দেশে জাতীয় ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থায় সহায়ক হয়েছে (যেমন Fayda, PhilSys)।

৪. একটি সহজ উপমা: “ডিজিটাল সেবার জন্য সড়ক নেটওয়ার্ক”

DPI-কে ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে একটি সড়ক নেটওয়ার্ক হিসেবে বোঝা যায়। যেমন জনসাধারণের রাস্তা নাগরিক চলাচল এবং উদ্যোক্তাদের পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়িয়ে অর্থনীতিতে গতি আনে—তেমনি DPI তথ্য (ডেটা, ডিজিটাল রেকর্ড) ও সেবা প্রদানকারীদের (পেমেন্ট সেবাদাতা, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর্মী ইত্যাদি) মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, যাতে সেবাগুলো নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দক্ষভাবে স্কেল করতে পারে।

DPI ও DPGs একত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনকে নতুন সেবা/পণ্য নির্মাণের সুযোগ দেয়—যার ফলে অর্থনীতিজুড়ে spillover effect, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং combinatorial innovation-এর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়; এবং DPI বিনিয়োগের সামগ্রিক বহুগুণ (multiplier) মূল্যও বাড়ে।

৫. দক্ষিণ এশিয়ায় DPI ল্যান্ডস্কেপ: কোর DPI ও সেক্টরাল DPI

৫.১ DPI

DPI হিসেবে সাধারণত তিনটি ভিত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে—

ডিজিটাল পরিচয় (Digital Identity)

ডিজিটাল পেমেন্ট (Payments)

ডেটা বিনিময়/ডেটা এক্সচেঞ্জ (Data Exchange)

দেশভেদে পরিপক্বতার স্তর ভিন্ন হলেও, ছয়টি দেশেই কোর DPI বিস্তারের প্রচেষ্টা দৃশ্যমান।

ডিজিটাল পরিচয় (নির্বাচিত উদাহরণ):

ভারত: প্রায় সর্বজনীন কভারেজ (~৯৯%)

ভুটান: যোগ্য ব্যবহারকারীর মধ্যে ~৪৬% এবং ১০০+ সেবার সাথে সংযুক্ত

মালদ্বীপ: ~৪৭% কভারেজ এবং ১৪০+ সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশাধিকার

বাংলাদেশ: স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্য (বর্তমান ~৪০% কভারেজ থেকে)

ডিজিটাল পেমেন্ট (নির্বাচিত উদাহরণ):

ভারত: UPI খুচরা ডিজিটাল লেনদেনের বড় অংশ পরিচালনা করে (~৮৫%)

নেপাল: সরকারি ব্যয়ের বড় অংশ ডিজিটালকরণ (≈৯০%)

মালদ্বীপ: Favara রোলআউটের পর প্রথম বছরে উল্লেখযোগ্য লেনদেন মূল্যমান (~$১.৫৪ বিলিয়ন)

ক্রস-বর্ডার আন্তঃকার্যকারিতা:

জাতীয় পেমেন্ট সিস্টেমগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যকারিতা ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারক্ষেত্র হয়ে উঠছে; উদাহরণ হিসেবে, নির্দিষ্ট গন্তব্যে ভ্রমণের সময় UPI ব্যবহারযোগ্যতার উল্লেখ করা হয়েছে।

৫.২ ডেটা এক্সচেঞ্জ ও সম্মতি-ভিত্তিক শেয়ারিং

ডেটা এক্সচেঞ্জ সক্ষমতায় দেশভেদে বৈচিত্র্য রয়েছে। ভারতীয় অভিজ্ঞতায় সম্মতি-ভিত্তিক নথি বিনিময় ব্যবস্থার (যেমন Account Aggregator, DigiLocker) উল্লেখ রয়েছে; ভুটানের ক্ষেত্রে জাতীয় ডেটা এক্সচেঞ্জ ও রিয়েল-টাইম যাচাইকরণ সক্ষমতার কথা এসেছে।

৫.৩ সেক্টরাল DPI

সেক্টরাল DPI এখনও তুলনামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে অগ্রগতি শুরু হয়েছে:

শ্রীলঙ্কা: ওপেন-সোর্স DHIS2 (স্বাস্থ্য ডেটা সংগ্রহ/ব্যবস্থাপনা)

ভারত: DIKSHA (শিক্ষা) — কোর DPI সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে

৬. সেবা প্রত্যাশা, সক্ষমতা ও অর্থায়ন কাঠামোর বাস্তবতা

নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা সরকারি সেবা সমন্বিত সার্ভিস পোর্টাল-এর মাধ্যমে, এক জায়গায়, কম সময় ও কম ব্যয়ে প্রত্যাশা করে—যা বেসরকারি খাতের মানের কাছাকাছি। তবে কার্যকর ডিজিটাল রূপান্তর বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিক সেবা-মান বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং মান-নিশ্চিতকরণ আরও গুরুত্ব দাবি করে। একই সঙ্গে, প্রচলিত বাজেট ও ক্রয়বিধি (procurement) অনেক ক্ষেত্রে DPI বিনিয়োগের প্রকৃতির সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কারণ DPI সাধারণত

মডুলার (ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য)

পুনঃব্যবহারযোগ্য কমন বিল্ডিং ব্লক-নির্ভর

অনেক ক্ষেত্রে ওপেন-সোর্স-সক্ষম

এছাড়া, DPI ক্লাউড-ভিত্তিক হলে প্রাথমিক CAPEX তুলনামূলক কম হলেও OPEX (অপারেশন, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, স্কেলিং, দক্ষ জনবল) প্রায়ই বেশি হয়। ফলে DPI টেকসই করতে “এককালীন অবকাঠামো ক্রয়” নয়—দীর্ঘমেয়াদি অপারেশনাল পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় বিবেচ্য।

৭. প্রধান প্রতিবন্ধকতা (Barriers) — সারসংক্ষেপ

প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ ও দুর্বল পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: শুধু ম্যান্ডেট/নীতিমালা যথেষ্ট নয়; নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, সাংগঠনিক সংস্কৃতি ও আস্থা সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পিত change management জরুরি।

দুর্বল বিদ্যুৎ ও কানেক্টিভিটি: অন্তর্ভুক্তিমূলক DPI বাস্তবায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, ডিভাইস ও ইন্টারনেট একটি মৌলিক পূর্বশর্ত।

খণ্ডিত লিগেসি সিস্টেম: ভিন্ন মানদণ্ড ও বিচ্ছিন্ন ডেটাবেস/সিস্টেমের কারণে ইন্টিগ্রেশন ধীর হয়, ব্যয় বাড়ে এবং অ-আন্তঃকার্যকর ডেটার “দ্বীপ” তৈরি হয়।

৮. সহায়ক উপাদান (Enablers)

জাতীয় উন্নয়ন কৌশলে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার: দীর্ঘমেয়াদি অগ্রাধিকার DPI-কে নির্বাচনী চক্রের ঊর্ধ্বে স্থিতিশীলতা দেয় এবং আস্থা বাড়ায়।

স্পষ্ট শাসন কাঠামো ও আইনি ভিত্তি: অংশগ্রহণের নিয়ম, দায়িত্ব-বণ্টন, মানদণ্ড ও জবাবদিহি নির্ধারিত থাকলে অনিশ্চয়তা কমে এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের আস্থা বৃদ্ধি পায়।

ধাপভিত্তিক ও অভিযোজ্য রোলআউট: পাইলট→প্রমাণ→স্কেলিং পদ্ধতি ঝুঁকি কমায়, ব্যবহারকারীর আস্থা তৈরি করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ দেয়।

কার্যকর অংশীদারিত্ব (donor/partners): সক্ষমতা ও অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে সহায়ক; তবে টেকসই হয় তখনই, যখন জ্ঞান/সিস্টেম জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্থায়ীভাবে প্রোথিত হয় এবং সমান্তরাল কাঠামো সৃষ্টি না করে।

৯. বৈশ্বিক গতি ও নীতিগত প্রেক্ষাপট

DPI বিশ্বব্যাপী অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে—সরকার, বহুপাক্ষিক সংস্থা এবং ফিলানথ্রপিক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত। উদাহরণ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ দেশে DPI মোতায়েনের লক্ষ্য, “50-in-5” উদ্যোগের উচ্চাকাঙ্ক্ষা (২০২৮-এর মধ্যে ৫০ দেশে ডিজাইন-লঞ্চ-স্কেল সহায়তা) এবং ডিজিটাল আইডি নিবন্ধন সম্প্রসারণের লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের Global Digital Compact একটি উন্মুক্ত, নিরাপদ ও মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ, মানবাধিকার, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং SDG অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী ও টেকসই DPI প্রসারের অঙ্গীকারকে জোরদার করে—বিশেষত সার্বজনীন সংযোগ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষা-জনসেবায় সহায়তার লক্ষ্যকে সামনে রেখে।

১০. দক্ষিণ এশিয়ার জন্য মূল শিক্ষা (Lessons Learned) — নীতিগত দিকনির্দেশনা

১০.১ ক্ষমতাবান DPI স্টুয়ার্ড/কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা

অভিজ্ঞতা নির্দেশ করে, DPI সবচেয়ে কার্যকর হয় যখন একটি একীভূত, ক্ষমতাবান ও বিশ্বাসযোগ্য স্টুয়ার্ড স্পষ্ট ম্যান্ডেট, বাজেট নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় আহ্বানের ক্ষমতা নিয়ে কাজ করে। দক্ষিণ এশিয়ায় যেখানে গভর্ন্যান্স খণ্ডিত ও মালিকানা ওভারল্যাপের ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে কেবল আইন বা নীতিমালা যথেষ্ট নয়—প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ও সমন্বয় সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।

১০.২ পাইলট ও স্যান্ডবক্সকে ধাপভিত্তিক বাস্তবায়নের অংশ করুন

অঞ্চলে সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা অসম হওয়ায় পাইলট→মূল্যায়ন→স্কেলিং পদ্ধতি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। এতে ঝুঁকি কমে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শেখা যায় এবং প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারীর আস্থা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। একই সঙ্গে, “চিরস্থায়ী পাইলট” এড়াতে শুরুতেই স্পষ্ট স্কেল-গেট, সময়সীমা ও অর্থায়ন পথ নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ।

১০.৩ আইনগত সংস্কারের পাশাপাশি সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করুন

আইন ও বাহ্যিক সহায়তা থাকলেও—মানবসম্পদ, প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল সক্ষমতা এবং চেঞ্জ-চ্যাম্পিয়ন ছাড়া গ্রহণযোগ্যতা সীমিত থাকতে পারে। তাই দক্ষিণ এশিয়ায় আইনগত সংস্কারের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং দক্ষতা স্থানান্তরভিত্তিক অংশীদারিত্ব সমানভাবে প্রয়োজন।

১০.৪ শুরু থেকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নকশা (inclusive-by-design)

অঞ্চলে অবকাঠামোগত ঘাটতি, ব্যয়-সীমাবদ্ধতা ও কম ডিজিটাল সাক্ষরতা বিবেচনায় DPI-কে শুরু থেকেই লো-কানেক্টিভিটি, বহুভাষিক কনটেন্ট, অফলাইন/লো-টেক ইন্টারফেস (যেমন SMS/USSD) এবং কার্যকর ফিডব্যাক লুপ সহ নকশা করতে হবে। পাশাপাশি, কানেক্টিভিটি ও হার্ডওয়্যার বিনিয়োগ সমান্তরালভাবে অগ্রসর হওয়া জরুরি, যাতে সুবিধা বাস্তবে সবার কাছে পৌঁছায়।

১১. উপসংহার: দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি

দক্ষিণ এশিয়ায় DPI একটি বাস্তব সুযোগ—যা জনসেবার মানোন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং SDG অগ্রগতিতে সহায়ক হতে পারে; একই সঙ্গে, উপযুক্ত নীতিগত সমন্বয় ও আন্তঃকার্যকারিতা নিশ্চিত হলে এটি আঞ্চলিক সংহতিও দৃঢ় করতে পারে। 

তবে টেকসই গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে অঞ্চলকে খণ্ডিত গভর্ন্যান্স, সক্ষমতার অসমতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দাতা-নির্ভরতার ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে—এবং তা করতে হবে ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠান, ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন, সক্ষমতা বিনিয়োগ, আস্থা-ভিত্তিক ডেটা গভর্ন্যান্স ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নকশার সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে।                           

এ এইচ এম. বজলুর রহমান, ডিজিটাল গণতন্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাম্বাসেডর








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।