এ বছরের শুরুতে গুগলের এআই প্রধান জেফ ডিন ‘ডিস্টিলেশন’ প্রযুক্তির কথা তুলে ধরেন। এই পদ্ধতিতে উন্নত এআই মডেলের জ্ঞান ব্যবহার করে ছোট ও কম খরচের মডেলকে আরও দক্ষ করে তোলা হয়।
সম্প্রতি চীনা প্রতিষ্ঠান মুনশট এআই-এর ‘কিমি কে৩’ মডেল বাজারে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অনেকের মতে, এটি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সেরা মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, মুনশট আমেরিকান এআই মডেলের আউটপুট ব্যবহার করে তাদের প্রযুক্তি উন্নত করেছে, যা মেধাসম্পদ চুরির শামিল। তবে মুনশটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ওপেন-ওয়েট’ মডেল উন্মুক্ত করায় ব্যবহারকারীরা সহজেই সেগুলো ডাউনলোড ও ব্যবহার করতে পারছেন।
ডিস্টিলেশন বলতে উন্নত এআই মডেলের উত্তর বা আউটপুট ব্যবহার করে অন্য একটি এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়াকে বোঝায়। সমর্থকদের মতে, এটি এআই উন্নয়নের স্বাভাবিক ও কার্যকর কৌশল। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, এটি অন্যের গবেষণা ও প্রযুক্তির অন্যায্য ব্যবহার হতে পারে।
এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, মেটাসহ ২০টির বেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রকে ওপেন-ওয়েট মডেলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অন্যদিকে অ্যানথ্রপিক অভিযোগ করেছে, চীনের কিছু প্রতিষ্ঠান ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাদের এআই থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। যদিও ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক নিজেরাও কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহার করে এআই প্রশিক্ষণের অভিযোগে বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
সংক্ষেপে, ডিস্টিলেশন এখন শুধু একটি প্রযুক্তিগত কৌশল নয়; এটি মেধাসম্পদ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতার অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।








০ টি মন্তব্য