https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

বাংলাদেশের তৈরি ৫টি ডিজিটাল পণ্য, যেগুলো হতে পারে বিদেশি সফটওয়্যারের বিকল্প

বাংলাদেশের তৈরি ৫টি ডিজিটাল পণ্য, যেগুলো হতে পারে বিদেশি সফটওয়্যারের বিকল্প বাংলাদেশের তৈরি ৫টি ডিজিটাল পণ্য, যেগুলো হতে পারে বিদেশি সফটওয়্যারের বিকল্প
 

বাংলাদেশে তৈরি সফটওয়্যার এখন শুধু স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যবহার হচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনা, অনলাইন মার্কেটপ্লেস তৈরি, হিসাব সংরক্ষণ এবং কর্মীদের কাজ ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য বিদেশি সফটওয়্যারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের করব্যবস্থা, ব্যবসার ধরন এবং স্থানীয় ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি সফটওয়্যার ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর হতে পারে। 

নিচে এমন পাঁচটি ডিজিটাল পণ্য তুলে ধরা হলো, যেগুলো নির্দিষ্ট কাজে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যারের বিকল্প হতে পারে। তবে প্রতিটি পণ্যের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে ব্যবহার নির্বাচন করা প্রয়োজন।

১. PrismERP — ব্যবসা পরিচালনার দেশীয় সমাধান

বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান Divine IT Limited-এর তৈরি PrismERP দিয়ে হিসাবরক্ষণ, বিক্রয়, মজুত ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের বেতন এবং সরবরাহব্যবস্থার কাজ পরিচালনা করা যায়। একাধিক বিভাগের তথ্য একটি ব্যবস্থায় রাখার সুবিধা থাকায় এটি SAP Business One বা Microsoft Dynamics-এর মতো বিদেশি ERP সফটওয়্যারের বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও করসংক্রান্ত প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার বেছে নিতে চাওয়া প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি বিবেচনাযোগ্য। 

ওয়েবসাইট: https://www.prismerp.net/

২. Dokan — নিজের অনলাইন মার্কেটপ্লেস তৈরির টুল

বাংলাদেশের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান weDevs-এর তৈরি Dokan হলো WooCommerce-ভিত্তিক মাল্টিভেন্ডর মার্কেটপ্লেস তৈরির সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে এক ওয়েবসাইটে একাধিক বিক্রেতা নিজেদের পণ্য বিক্রি ও দোকান পরিচালনা করতে পারেন। এটি Amazon, Etsy বা অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের মতো ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করে নিজস্ব ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম গড়তে সহায়তা করে। ফলে মার্কেটপ্লেস তৈরির জন্য সম্পূর্ণ কাস্টম সফটওয়্যার বানানোর পরিবর্তে এটি একটি বিকল্প হতে পারে। 

ওয়েবসাইট: https://dokan.co/

৩. WP ERP — ছোট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা সহজ করতে

weDevs-এর আরেকটি পণ্য WP ERP। এটি WordPress ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যবসার গ্রাহক ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ এবং হিসাবসংক্রান্ত কাজ সংগঠিত করা যায়। ছোট ব্যবসা ও সীমিত বাজেটের প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি কিছু বিদেশি CRM এবং ব্যবসা ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের বিকল্প হতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাবরক্ষণ বা বড় প্রতিষ্ঠানের জটিল কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় ফিচার সংস্করণ ও কনফিগারেশন অনুযায়ী যাচাই করতে হবে। 

ওয়েবসাইট: https://wperp.com/

৪. WP Project Manager — দলের কাজ ও প্রকল্প পরিচালনায়

WP Project Manager একটি WordPress-ভিত্তিক প্রকল্প ব্যবস্থাপনা টুল। এর সাহায্যে দলীয় কাজ ভাগ করা, প্রকল্পের অগ্রগতি দেখা এবং কাজের পরিকল্পনা সংগঠিত করা যায়। এটি Asana, Trello বা অনুরূপ বিদেশি টুলের কিছু কাজের বিকল্প হতে পারে, বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই WordPress ব্যবহার করে। তবে উন্নত অটোমেশন, তৃতীয় পক্ষের সংযোগ এবং বড় দলের সহযোগিতার সুবিধা তুলনা করে নেওয়া উচিত। 

ওয়েবসাইট: https://wedevs.com/wp-project-manager-pro/

৫. PrismVAT — ভ্যাট ও হিসাবের কাজে দেশীয় প্রযুক্তি

PrismVAT বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভ্যাটসংক্রান্ত হিসাব ও প্রতিবেদন তৈরির জন্য তৈরি একটি সফটওয়্যার। এর প্যাকেজ অনুযায়ী বিক্রয়, ক্রয়, মজুত, ভ্যাট প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশের করব্যবস্থা অনুসারে কাজ করতে হয় এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি আন্তর্জাতিক সাধারণ হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যারের পাশাপাশি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে নির্দিষ্ট ভ্যাট ফরম, বর্তমান আইন মেনে চলা এবং NBR-এর সঙ্গে সংযোগের বিষয়গুলো কেনার আগে যাচাই করা জরুরি। 

ওয়েবসাইট: https://www.prismvat.net/

দেশীয় সফটওয়্যারের সামনে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে তৈরি এসব পণ্য স্থানীয় ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করছে। বিদেশি সফটওয়্যারের লাইসেন্স ফি, ডলারে মূল্য পরিশোধ, স্থানীয় করব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং গ্রাহকসেবার মতো বিষয় বিবেচনায় দেশীয় সমাধান অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যারের বিস্তৃত ফিচার, বড় পরিসরের ইন্টিগ্রেশন এবং বৈশ্বিক সহায়তার সুবিধাও রয়েছে।

তাই দেশীয় সফটওয়্যার মানেই সব ক্ষেত্রে বিদেশি সফটওয়্যারের চেয়ে ভালো—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। বরং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, বাজেট, নিরাপত্তা, তথ্যের মালিকানা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। দেশীয় প্রযুক্তিপণ্যের মান ও আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়লে বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।