কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু লেখা, কোড তৈরি বা তথ্য বিশ্লেষণের কাজে সীমাবদ্ধ নেই; সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। এই বাস্তবতার মধ্যে নিরাপত্তা পেশাজীবীদের জন্য নিজেদের সবচেয়ে সক্ষম AI মডেল ব্যবহারের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে Anthropic। ৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি তার Cyber Verification Program বা CVP সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে। নতুন কাঠামোর লক্ষ্য হলো যাচাইকৃত ও অনুমোদিত সাইবার নিরাপত্তা দলগুলোকে এমন AI সক্ষমতা দেওয়া, যা তারা নিজেদের সিস্টেমের দুর্বলতা শনাক্ত, বিশ্লেষণ ও প্রতিরোধে ব্যবহার করতে পারবে। Anthropic
Anthropic জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচিতে তিনটি স্তরের access তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি স্তরে ব্যবহারকারীর কাজের ধরন, প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে AI ব্যবহারের অনুমতি নির্ধারণ করা হবে। সাধারণভাবে ব্যবহৃত Claude মডেলগুলোতে সাইবার-সংক্রান্ত কিছু কাজের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা থাকে। এর কারণ স্পষ্ট—যে AI একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দলকে দুর্বলতা খুঁজে বের করতে সাহায্য করতে পারে, একই প্রযুক্তি কোনো আক্রমণকারী ব্যবহার করলে ক্ষতিকর কাজে লাগতে পারে।
Anthropic-এর নতুন Defense Access মূলত প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য তৈরি। নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার, incident response, malware analysis, vulnerability validation এবং reverse engineering-এর মতো কাজে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধা পেতে পারে। এর পাশাপাশি Red Team Access স্তরে অনুমোদিত penetration testing ও red-team কার্যক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এখানেও ব্যবহারকারীদের কেবল নিজেদের বা অনুমোদিত সিস্টেম পরীক্ষা করার অনুমতি থাকবে। শারীরিক ক্ষতি, ransomware deployment কিংবা উচ্চঝুঁকির safety system-এ ক্ষতিকর পরীক্ষা চালানোর মতো কাজের ওপর সীমাবদ্ধতা থাকবে।
সবচেয়ে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত স্তর হলো Specialized Access। এটি এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য, যারা বিমান চলাচল ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিড, টেলিকম নেটওয়ার্ক, আন্তঃব্যাংক অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা কিংবা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মতো উচ্চঝুঁকির সিস্টেম পরীক্ষা করে। এই স্তরে প্রবেশের আগে প্রতিষ্ঠানকে গভীরভাবে যাচাই করা হবে এবং Anthropic জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদন দেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে Anthropic যে তথ্য দিয়েছে, তা আরও গুরুত্বপূর্ণ। Project Glasswing-এর মাধ্যমে কোম্পানিটি জানিয়েছে, অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো এপ্রিল থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ২৯ হাজার যাচাইকৃত সফটওয়্যার দুর্বলতা শনাক্ত করেছে। Anthropic-এর নিজস্ব open-source scanning কার্যক্রমে এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে আরও ৫ হাজার ৫০০ যাচাইকৃত দুর্বলতা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ হাজারের বেশি দুর্বলতাকে critical বা high severity হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোম্পানির দাবি, এই সংখ্যা প্রকৃত প্রভাবের তুলনায় কম হতে পারে, কারণ অংশীদারদের একটি অংশের তথ্যের ওপর হিসাবটি নির্ভর করছে। Anthropic
Anthropic-এর জন্য এটি একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা নীতির পরীক্ষা। AI যত শক্তিশালী হচ্ছে, নিরাপত্তা গবেষকদের কাছে সেটির পূর্ণ সক্ষমতা না দিলে প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আবার একই সক্ষমতা ভুল হাতে গেলে আক্রমণের মাত্রাও বাড়তে পারে। তাই কোম্পানিটি ব্যবহারকারীর পরিচয়, কাজের ধরন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে access tier তৈরির পথ বেছে নিয়েছে। এর মাধ্যমে AI কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে অত্যন্ত সক্ষম cyber model পরিচালনা করবে, তার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে।








০ টি মন্তব্য