এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে জাতিসংঘের Global Dialogue on AI Governance–এর অংশীজন পরামর্শপ্রক্রিয়া। জাতিসংঘের Office for Digital and Emerging Technologies, International Telecommunication Union (ITU) এবং UNESCO–এর সহায়তায় আহ্বান করা এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক এআই গভর্ন্যান্সের পরবর্তী দিগন্ত নিয়ে মতামত, অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাব সংগ্রহ করা। সদস্যরাষ্ট্র, একাডেমিয়া, বেসরকারি খাত, প্রযুক্তি সম্প্রদায় এবং নাগরিক সমাজকে এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এআই গভর্ন্যান্সের প্রশ্ন এখন আর কোনো একক দেশ বা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষের অধিকার, তথ্যপ্রবাহ, অর্থনীতি এবং গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাকে স্পর্শ করছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা আমন্ত্রিত অংশীজন পরামর্শে অংশগ্রহণ করি এবং বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) –এর পক্ষ থেকে লিখিত মতামত জমা দিই। আমাদের মতামতের মূল কথা ছিল সরল, কিন্তু জরুরি: বৈশ্বিক এআই গভর্ন্যান্স শুধু ক্ষমতাধর রাষ্ট্র, বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এবং গ্লোবাল নর্থের বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের হাতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি অবশ্যই উন্নয়নশীল দেশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, নারী, তরুণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী, গ্রামীণ মানুষ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় প্রায়ই উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতার কথা বেশি বলা হয়। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের বাস্তবতায় এআই কেবল অর্থনৈতিক সুযোগের প্রশ্ন নয়। এটি একই সঙ্গে অধিকার, অন্তর্ভুক্তি, নিরাপত্তা, তথ্যের সততা, সামাজিক ন্যায়, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং জনআস্থার প্রশ্ন। এআই যদি কেবল বাজারের সুবিধা বা রাষ্ট্রের প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়, তাহলে মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন দ্বিতীয় সারিতে চলে যাবে। সেটিই হবে সবচেয়ে বড় বিপদ।
জাতিসংঘের এই বৈশ্বিক সংলাপের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্রগুলোও সেই বাস্তবতাকে সামনে আনে। এর মধ্যে রয়েছে এআইয়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ এবং প্রভাব; এআই বৈষম্য কমাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল ভিত্তি শক্তিশালী করা; নিরাপদ, সুরক্ষিত ও বিশ্বাসযোগ্য এআই ব্যবস্থার উন্নয়ন; দায়িত্বশীল ও পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ এআই গভর্ন্যান্স পদ্ধতি; মানবাধিকার সুরক্ষা; স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানবিক তদারকি। এসব ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এগুলো কার্যকর করতে হলে স্থানীয় বাস্তবতা, ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক কাঠামো এবং ক্ষমতার অসমতা বুঝতে হবে। নীতির ভাষা যতই সুন্দর হোক, তা যদি মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে সেটি বাস্তবে অকার্যকর থেকে যায়।
আমাদের লিখিত মতামতে পাঁচটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, এআই গভর্ন্যান্স হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক। এআই পরিচালনার কাঠামো কোনো বিমূর্ত ব্যবহারকারী, বাজার বা প্রতিষ্ঠানের ধারণার ওপর দাঁড়ালে চলবে না। প্রযুক্তির ব্যবহারকারী সবাই একই জায়গা থেকে শুরু করেন না। শহরের একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যবহারকারী, গ্রামের একজন নারী উদ্যোক্তা, একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, একজন স্থানীয় সাংবাদিক, একজন কৃষক বা একজন তরুণ কর্মসংস্থানপ্রার্থী, এআই তাঁদের প্রত্যেকের জীবনে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এআই নীতি তৈরির সময় এই পার্থক্যগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ডিজিটাল বৈষম্য, অনলাইন ক্ষতি, ভুয়া তথ্য, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত এবং দুর্বল জবাবদিহির প্রভাব সাধারণত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর বেশি পড়ে। অথচ নীতিনির্ধারণের টেবিলে তাঁদের উপস্থিতি সবচেয়ে কম। এটি একটি গভীর গণতান্ত্রিক ঘাটতি। অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই গভর্ন্যান্স মানে শুধু প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কে ডেটা দেবে, কীভাবে ডেটা ব্যবহার হবে, কোন ভাষায় সেবা তৈরি হবে, কোন জনগোষ্ঠী ঝুঁকিতে পড়বে, কে ক্ষতিপূরণ পাবে, কার অধিকার লঙ্ঘিত হলে কোথায় প্রতিকার চাইবে, এসব প্রশ্নে স্থানীয় মানুষের মতামত থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, গুরুত্ব দিতে হবে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও স্থানীয় প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান তৈরির ওপর। বৈশ্বিক নীতিমালা দরকার, কিন্তু তা স্থানীয় জ্ঞানের বিকল্প নয়। এআইয়ের প্রভাব বুঝতে হলে ঢাকার নীতিকক্ষের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সমাজের অভিজ্ঞতা জানতে হবে। বাংলাদেশসহ গ্লোবাল সাউথের বহু দেশে প্রযুক্তিনির্ভর নীতি অনেক সময় ওপর থেকে নিচে চাপিয়ে দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় সমস্যার বাস্তবতা হারিয়ে যায়।
এখানে নাগরিক সমাজ, সরকার, একাডেমিয়া, গণমাধ্যম, যুব নেটওয়ার্ক, নারী সংগঠন, প্রযুক্তি খাত এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এআই নিয়ে স্থানীয় সংলাপ, জনশুনানি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং প্রমাণভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করা দরকার। কোন এলাকায় মানুষ এআই সম্পর্কে কী জানে, কোন ভাষায় তথ্য পেতে চায়, কোন ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি, কোন ক্ষেত্রে সুযোগ আছে, এসব প্রশ্নের উত্তর স্থানীয় পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা উচিত।
আমাদের দীর্ঘদিনের কাজ, বিশেষ করে জাতিসংঘের তথ্য সমাজবিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন (ডব্লিউএসআইএস) অ্যাকশন লাইন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, কমিউনিটি মিডিয়া এবং আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্টের অভিজ্ঞতা, এ ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ভিত্তি দিতে পারে। কমিউনিটি মিডিয়া এখানে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ জটিল প্রযুক্তিগত আলোচনা সাধারণ মানুষের ভাষায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্বেগ জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তুলে ধরার সেতু হিসেবেও তারা কাজ করতে পারে। এই সেতু না থাকলে এআই গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞদের সীমিত আলোচনায় বন্দী হয়ে পড়বে।
তৃতীয়ত, গুরুত্ব দিতে হবে এআই-সম্পর্কিত ঝুঁকি, অধিকার এবং জনস্বার্থ সুরক্ষার ওপর। এআই উন্নয়নকে সহায়তা করতে পারে, সরকারি সেবা সহজ করতে পারে, তথ্য বিশ্লেষণ দ্রুত করতে পারে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কিন্তু যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া ব্যবহৃত হলে একই প্রযুক্তি বিদ্যমান বৈষম্য, নজরদারি, বিভ্রান্তি ও সহিংসতাকে আরও গভীর করতে পারে।
আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য, প্রযুক্তি-সহায়ক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, অনলাইন নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা এবং জনযোগাযোগের সততা নিয়ে। এ উদ্বেগ কোনো তাত্ত্বিক আলোচনা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়ালে নাগরিকেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারায়। ডিপফেক, কৃত্রিম ছবি, মিথ্যা অডিও বা স্বয়ংক্রিয় প্রচারণা নির্বাচনী পরিবেশ ও জনআলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নারী ও মেয়েরা অনলাইন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, কুৎসা, অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি বা পরিচয় বিকৃতির শিকার হলে তাঁদের জনপরিসরে অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে যায়। এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এটি গণতন্ত্রেরও ক্ষতি।
ডেটা সুরক্ষার প্রশ্নও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য যদি পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়া সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যবহার করা হয়, তাহলে তারা নিজের পরিচয়, গোপনীয়তা ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। এআই ব্যবস্থায় ভুল সিদ্ধান্ত হলে দায় কার, ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে, মানুষ কীভাবে আপিল করবে, এসব বিষয় স্পষ্ট না হলে প্রযুক্তির প্রতি জনআস্থা তৈরি হবে না। তাই নিরাপদ, সুরক্ষিত ও বিশ্বাসযোগ্য এআই বলতে শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা বোঝালে চলবে না। এর মধ্যে অধিকার, প্রতিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও থাকতে হবে।
চতুর্থত, প্রয়োজন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও এআই সাক্ষরতা। এআই গভর্ন্যান্স কার্যকর হবে না, যদি কেবল অল্প কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তি বোঝেন এবং বাকি সমাজ নীতির বাইরে থাকে। স্থানীয় অংশীজনদের জানতে হবে এআই কীভাবে কাজ করে, কোথায় এর ঝুঁকি, কোথায় এর সম্ভাবনা, অধিকার ও জীবিকার ওপর এর প্রভাব কী হতে পারে এবং কীভাবে এআই দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়।
সাংবাদিক, শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ নেতৃত্ব, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, নারী সংগঠন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক কর্মীদের জন্য এআই সাক্ষরতা বিশেষভাবে জরুরি। সাংবাদিকদের জানতে হবে কীভাবে এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করতে হয়। শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করলে শেখার প্রক্রিয়া কীভাবে বদলাবে। নাগরিক সমাজকে জানতে হবে মানবাধিকার ও জবাবদিহির প্রশ্ন কোথায় উঠবে। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের জানতে হবে জনসেবা প্রদানে এআই ব্যবহার করলে কী ধরনের বৈষম্য তৈরি হতে পারে। তরুণদের জানতে হবে এআই শুধু চাকরির ঝুঁকি নয়, নতুন দক্ষতার সুযোগও তৈরি করছে।
তবে এআই সাক্ষরতা কেবল কারিগরি প্রশিক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে নৈতিকতা, অধিকার, তথ্য যাচাই, অনলাইন নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা, লিঙ্গ সংবেদনশীলতা, ভাষাগত অন্তর্ভুক্তি এবং জনস্বার্থভিত্তিক যোগাযোগ। মানুষকে শুধু এআই ব্যবহার করতে শেখানো যথেষ্ট নয়; মানুষকে এআইকে প্রশ্ন করতেও শেখাতে হবে।
পঞ্চমত, এআই গভর্ন্যান্সকে Global Digital Compact, WSIS+20 Review এবং বৃহত্তর ডিজিটাল সহযোগিতা এজেন্ডার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এআই গভর্ন্যান্সকে আলাদা কোনো প্রযুক্তিগত বিতর্ক হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অধিকারভিত্তিক এবং উন্নয়নমুখী ডিজিটাল সমাজ গঠনের বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ।
আমরা ২০০২ সাল থেকে WSIS প্রক্রিয়ার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এই অভিজ্ঞতা দেখায়, ডিজিটাল সহযোগিতা তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তা অংশগ্রহণ, জনস্বার্থ, স্থানীয় বাস্তবতা এবং যৌথ দায়িত্ববোধের ওপর দাঁড়ায়। WSIS প্রক্রিয়া আমাদের শিখিয়েছে, প্রযুক্তি উন্নয়নের ভাষা যতই আকর্ষণীয় হোক, মানুষের ক্ষমতায়ন, তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতা, ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণ এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ ছাড়া তা টেকসই হয় না। এআই গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রেও একই শিক্ষা প্রযোজ্য।
এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। এআই নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা এখন খুব দ্রুত এগোচ্ছে। কিন্তু দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদে যদি অন্তর্ভুক্তি, মানবাধিকার ও স্থানীয় বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতের নীতি দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। প্রযুক্তি দ্রুত বদলায়, কিন্তু সামাজিক আস্থা ধীরে তৈরি হয়। একবার আস্থা নষ্ট হলে তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন। তাই এআই গভর্ন্যান্সের প্রশ্নে তাড়াহুড়া নয়, দায়িত্বশীলতা দরকার।
বাংলাদেশের মতো দেশে এআই নিয়ে আলোচনার আরও গণতান্ত্রিক ও জনভিত্তিক রূপ দরকার। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেমন আলোচনা হবে, তেমনি জেলা-উপজেলা পর্যায়েও এ বিষয়ে জনপরিসর তৈরি করতে হবে। স্থানীয় সাংবাদিক, কমিউনিটি রেডিও, যুব সংগঠন, নারী নেতৃত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে যুক্ত করে এআইয়ের সুযোগ ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। এআই যদি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে মানুষের ভাষায়, মানুষের জায়গায় এবং মানুষের অংশগ্রহণে এআই নিয়ে কথা বলতে হবে।
আমাদের অবস্থান স্পষ্ট: এআই গভর্ন্যান্স হতে হবে গণতান্ত্রিক, স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক, অধিকারসংবেদনশীল এবং মানবিক মর্যাদাকেন্দ্রিক। এটি অধিকার রক্ষা করবে, জনযোগাযোগকে শক্তিশালী করবে, দায়িত্বশীল উদ্ভাবনকে সহায়তা করবে এবং উন্নয়নশীল দেশ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অন্য কোথাও তৈরি করা প্রযুক্তি ব্যবস্থার নিছক ব্যবহারকারী হিসেবে দেখবে না। বরং তাঁদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, ভাষা ও প্রয়োজনকে নীতির কেন্দ্রে আনবে।
চ্যালেঞ্জটি তাই শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার নয়। আসল চ্যালেঞ্জ হলো, এআইয়ের শাসন যেন সব মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আকাঙ্ক্ষাকে যথার্থভাবে ধারণ করে। বৈশ্বিক এআই গভর্ন্যান্স তখনই ন্যায়ভিত্তিক হবে, যখন স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রান্তে নয়, কেন্দ্রে রাখা হবে। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ যদি মানুষের জন্য হয়, তাহলে সেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আলোচনাতেও মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।




.jpg)



০ টি মন্তব্য