https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

ডিজিটাল বৈষম্য: প্রবেশ নয়, ক্ষমতার প্রশ্ন

ডিজিটাল বৈষম্য: প্রবেশ নয়, ক্ষমতার প্রশ্ন ডিজিটাল বৈষম্য: প্রবেশ নয়, ক্ষমতার প্রশ্ন
 

বাংলাদেশে ডিজিটাল উন্নয়নের সাফল্যগাথা এখন প্রায় প্রতিষ্ঠিত বয়ান। ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে, মোবাইল ফোনের বিস্তার ঘটেছে, সরকারি সেবা অনলাইনে এসেছে, মোবাইল আর্থিক লেনদেন এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ, তরুণেরা প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভিত্তিক শিল্পপরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৮.৯৯ মিলিয়ন। সংখ্যাটি ছোট নয়। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো, এই বিপুল সংযোগ কি মানুষের সামাজিক অবস্থান বদলাচ্ছে, নাকি কেবল বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও দ্রুত, আরও দক্ষ, আরও অদৃশ্য করে তুলছে। 

আমাদের নীতিনির্ধারণে একটি পুরোনো অভ্যাস আছে: সংযোগকে উন্নয়নের সমার্থক ধরে নেওয়া। যেন ইন্টারনেট পৌঁছালেই সুযোগ পৌঁছে যাবে, ডিজিটাল দক্ষতা বাড়লেই আয় বাড়বে, অনলাইন সেবা এলেই ক্ষমতায়ন ঘটবে। এই যুক্তি আরামদায়ক, কারণ এতে প্রযুক্তিকে নিরপেক্ষ ধরা যায়। কিন্তু প্রযুক্তি কখনোই শূন্য সামাজিক পরিসরে কাজ করে না। বাংলাদেশে ইন্টারনেট এমন এক সমাজে প্রবেশ করে, যেখানে শ্রেণি, লিঙ্গ, অঞ্চল, শিক্ষাগত বৈষম্য, পেশাগত অনিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বঞ্চনা আগেই শক্তভাবে বসে আছে। ফলে একই সংযোগ একজনের জন্য সিঁড়ি, আরেকজনের জন্য কেবল নতুন ধরনের নির্ভরতা হয়ে উঠতে পারে।

এই বাস্তবতা বোঝার জন্য শ্রমবাজারের দিকে তাকালেই যথেষ্ট। ILO-র ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ লেবার ফোর্স সার্ভে ২০২২ দেখাচ্ছে দেশের মোট কর্মরত মানুষের ৮৪.৯ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে যুক্ত। কর্মরত নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৯৬.৬ শতাংশ, আর ১৫ থেকে ২৭ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ৯২.৭ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রমজীবী মানুষের কাজ এমনিতেই অনিরাপদ, অস্থির, অধিকারবঞ্চিত। এই বাস্তবতায় ইন্টারনেট তাদের জীবনকে কিছুটা দ্রুত করতে পারে, যোগাযোগ সহজ করতে পারে, কাজ জোগাড়ের পথ খুলতে পারে, কিন্তু তাই বলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ আয়, মর্যাদাপূর্ণ কাজ বা দরকষাকষির শক্তি এনে দেবে, এমন ভাবার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। 

বাংলাদেশে নারীদের অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নকে আরও তীক্ষ্ণ করে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, দেশে মোবাইল ফোন মালিকানায় এখনও বড় লিঙ্গ-ফাঁক রয়ে গেছে, এবং বহু নারী পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ফোন ভাগাভাগি করে ব্যবহার করেন। এখানে “শেয়ার করা ফোন” একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, একটি ক্ষমতার প্রশ্ন। কারণ ফোন ভাগাভাগি মানে প্রায়ই গোপনীয়তা ভাগাভাগি, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি, এমনকি যোগাযোগের স্বাধীনতাও ভাগাভাগি। একজন নারী অনলাইনে আছেন, কিন্তু নিজের শর্তে নন; তাঁর অ্যাকাউন্ট আছে, কিন্তু সেটির ব্যবহার হয়তো তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই; তাঁর কাছে ডিজিটাল সুবিধা পৌঁছেছে, কিন্তু সিদ্ধান্তক্ষমতা পৌঁছেনি। এ কারণেই সংযোগের কাগুজে বিস্তারকে বাস্তব ক্ষমতায়নের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে বিশ্লেষণ ভেঙে পড়ে। 

ডিজিটাল উন্নয়নের পক্ষে একটি বহুল ব্যবহৃত ধারণা হলো “মিনিংফুল কানেক্টিভিটি” বা অর্থবহ সংযোগ। অ্যালায়েন্স ফর অ্যাফোর্ডেবল ইন্টারনেট এর নীতিগাইড অনুযায়ী, অর্থবহ সংযোগ বলতে বোঝায় এমন ইন্টারনেট ব্যবহার, যা প্রতিদিন করা যায়, উপযুক্ত ডিভাইস আছে, পর্যাপ্ত ডেটা আছে, এবং সংযোগ যথেষ্ট দ্রুত। এই কাঠামো নিঃসন্দেহে পুরোনো “ইন্টারনেট আছে কি নেই” ধরনের সরল পরিমাপের চেয়ে উন্নত। কিন্তু বাংলাদেশের মতো সমাজে এই কাঠামোও যথেষ্ট নয়। কারণ প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারা আর সেটিকে আয়, সম্পদ, নিরাপত্তা, সামাজিক কণ্ঠ বা ক্ষমতায় রূপান্তর করতে পারা এক জিনিস নয়। এখানে মূল পার্থক্য প্রযুক্তিগত নয়, সামাজিক। 

এই জায়গায় একটি জরুরি পার্থক্য করা দরকার। এক ধরনের সংযোগ আছে, যা কাজের সুবিধা বাড়ায়। ফর্ম পূরণ সহজ হয়, টাকা পাঠানো সহজ হয়, বাজারদর জানা যায়, চাকরির তথ্য মেলে, যোগাযোগের খরচ কমে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এগুলো মূলত ব্যবহারিক সংযোগ। আরেক ধরনের সংযোগ আছে, যা মানুষের অবস্থান বদলায়। যার ফলে কেউ নিজের আয়ের ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ পায়, পরিবারের ভেতরে বেশি কথা বলতে পারে, মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে, কর্মক্ষেত্রে অন্যায্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে, কিংবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। সেটিই রূপান্তরমূলক সংযোগ। বাংলাদেশের নীতিতে বড় ভুলটি হচ্ছে, প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির সমার্থক ধরে নেওয়া।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের অভিজ্ঞতা এই ভুলের একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ। গ্রামীণ মানুষের জন্য UDC নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল। অনলাইন ফর্ম, সনদ, সরকারি তথ্য ও কিছু সেবাকে স্থানীয় পর্যায়ে এনে এটি সময় ও যাতায়াত খরচ কমিয়েছে। কিন্তু UDC নিয়ে করা গবেষণা দেখিয়েছে, এর প্রভাব ছিল “ইতিবাচক হলেও সীমিত”, এবং এটি মূলত সেবাপ্রদানের শাসনব্যবস্থায় কিছু উন্নতি আনলেও সেবার পরিসর ছিল সীমিত। অর্থাৎ মানুষ রাষ্ট্রের দরজায় দ্রুত পৌঁছাতে পেরেছে, কিন্তু সেই সংযোগ বড় আকারে জীবিকা, বাজারে অবস্থান বা ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেয়নি। রাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব কিছুটা কমেছে, কিন্তু বৈষম্যের সঙ্গে দূরত্ব ততটা কমেনি। 

ডিজিটাল পেমেন্ট বা মোবাইল আর্থিক সেবার ক্ষেত্রেও একই শিক্ষা প্রযোজ্য। বিশ্বব্যাংকের G2Px এভিডেন্স ব্রিফ দেখায়, ডিজিটাল সরকার-থেকে-ব্যক্তি পেমেন্ট নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষত যখন অর্থ এমন ব্যক্তিগত ও কার্যকর অ্যাকাউন্টে যায়, যা প্রাপকের নিজের নামে থাকে। এখানে আসল শব্দটি হলো “অ্যাকাউন্ট” নয়, “নিয়ন্ত্রণ”। কারণ ডিজিটাল পেমেন্ট তখনই রূপান্তরমূলক, যখন তা মানুষকে আয় উৎপাদন, সঞ্চয় ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা দেয়। বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার বহু সাফল্য আছে, কিন্তু কেবল অ্যাকাউন্ট খোলার সংখ্যা দিয়ে এই সাফল্য মাপলে আসল প্রশ্ন আড়াল হয়ে যায়: টাকা কার হাতে থাকে, সিদ্ধান্ত কে নেয়, সুরক্ষা কার জন্য কাজ করে। 

বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্ম অর্থনীতি আরও কঠিন প্রশ্ন তোলে। রাইড-শেয়ারিং, ডেলিভারি, হোম সার্ভিস, ই-কমার্স, অনলাইন লজিস্টিকস, সব জায়গায় সংযোগকে কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। বাইরে থেকে এটি সুযোগের অর্থনীতি বলে মনে হয়। কিন্তু ফেয়ারওয়ার্ক বাংলাদেশ-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন বলছে, প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলোতে শ্রমিকেরা এখনও কম মজুরি, দুর্বল কর্মপরিবেশ, চাকরির অনিশ্চয়তা, চুক্তিগত অস্পষ্টতা, এবং প্রতিনিধিত্বের অভাবের মুখে আছেন। তাদের গবেষণায় বলা হয়েছে, পারিশ্রমিক, কাজের পরিবেশ, চুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বহু উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, সংযোগ শ্রমিককে বাজারে ঢুকিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাজারের নিয়ম লেখার টেবিলে বসায়নি। 

এখানেই প্রশ্নটি আর প্রযুক্তির থাকে না, সরাসরি ক্ষমতার প্রশ্ন হয়ে ওঠে। প্ল্যাটফর্ম যদি কমিশন কেটে নেয়, অ্যালগরিদম যদি কাজ বণ্টন করে, রেটিং যদি আয়ের ভবিষ্যৎ ঠিক করে, আর অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা বাতিলের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার না থাকে, তাহলে সেখানে “সংযোগ” আছে, কিন্তু “স্বাধীনতা” নেই। আমরা অনেক সময় ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকে অবকাঠামো, সামর্থ্যসাপেক্ষ ব্যয় ও দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি, অথচ প্ল্যাটফর্ম শাসন, প্রতিযোগিতা, শ্রমিকের অধিকার, ডেটা ব্যবহার, মূল্যনির্ধারণ, অ্যালগরিদমিক জবাবদিহি, এসবকে আলাদা ক্ষেত্র হিসেবে দেখি। ফল যা হওয়ার তাই হয়: মানুষকে অনলাইনে আনা হয়, কিন্তু অনলাইনের ভেতরের ক্ষমতার কাঠামো অক্ষত থাকে।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নীতি-আলোচনায় কম আসে। সংযোগ কেবল বাজারের বা প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটি শাসনের বিষয়ও। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ইন্টারনেট শাটডাউন দেখিয়ে দিয়েছে, একটি সমাজে ডিজিটাল সংযোগ যত বিস্তৃতই হোক, তা যদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মুহূর্তে অচল হয়ে যেতে পারে, তাহলে সেটি স্থিতিশীল নাগরিক অবকাঠামো নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই শাটডাউনে ফ্রিল্যান্সাররা ক্লায়েন্ট হারিয়েছেন, ছোট ব্যবসা যোগাযোগ ও অর্ডার ব্যবস্থাপনায় বিপাকে পড়েছে, পর্যটননির্ভর প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়েছে, সাধারণ মানুষ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতায় ভুগেছে। অর্থাৎ ইন্টারনেট এখানে শুধু তথ্যের পথ নয়; এটি আয়, আস্থা, চুক্তি, গ্রাহকসম্পর্ক, এমনকি সামাজিক সম্পর্কেরও অবকাঠামো। যে সংযোগ রাজনৈতিক সংকটে টেকে না, সেটিকে উন্নয়নের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি বলা কঠিন। 

এই বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়নকে নতুনভাবে ভাবতেই হবে। 

প্রথমত, আমাদের সাফল্য মাপার ভাষা বদলাতে হবে। কতজন প্রশিক্ষণ পেল, কতজন অনলাইনে এল, কতটি অ্যাকাউন্ট খুলল, কতটি সেবা ডিজিটাল হলো, এসব জানা দরকার, কিন্তু এসবই শেষ কথা হতে পারে না। মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত: কার আয় স্থিতিশীল হলো? কার নিজের উপার্জনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ল? কার বাজারে দরকষাকষির শক্তি বাড়ল? কার মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমল? কে অ্যালগরিদমিক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারল? কে প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্মের সামনে নিজের কণ্ঠ তুলতে পারল? এই সূচক ছাড়া ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি মূলত উপস্থিতির পরিসংখ্যান, রূপান্তরের নয়।

দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল নীতিকে খণ্ডিতভাবে দেখা যাবে না। অবকাঠামো এক মন্ত্রণালয়ের বিষয়, শ্রম অধিকার আরেক জায়গার বিষয়, ডেটা সুরক্ষা অন্যখানে, প্রতিযোগিতা নীতি আরেকখানে, আর নারী ক্ষমতায়ন আলাদা প্রকল্পের বিষয়, এই বিভাজন এখন অচল। কারণ বাস্তবে একজন প্ল্যাটফর্ম শ্রমিক, একজন নারী মোবাইল ব্যবহারকারী, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কিংবা একজন গ্রামীণ নাগরিক এই বিচ্ছিন্ন নীতির ভেতর আলাদা আলাদা করে বাঁচেন না। তাঁদের জীবনে এগুলো একে অন্যের সঙ্গে জড়িত। নীতিও তাই জড়িত হতে হবে।

তৃতীয়ত, আমাদের স্বীকার করতে হবে যে রূপান্তরমূলক সংযোগ রাজনৈতিকভাবে সহজ নয়। কারণ এটি কেবল নতুন ব্যবহারকারী তৈরি করে না, পুরোনো ক্ষমতার ভাগও চায়। প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে ন্যায্যতা চাইতে হয়, মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমাতে হয়, পরিবারের ভেতরে অর্থ ও ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নবিদ্ধ করতে হয়, রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্থিতিশীল ও অধিকারভিত্তিক সংযোগ দাবি করতে হয়। অর্থাৎ এটি নিছক প্রযুক্তিগত সংস্কার নয়; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভেতরে হস্তক্ষেপ।

বাংলাদেশের সামনে তাই এখন একটি স্পষ্ট পছন্দ আছে। আমরা চাইলে ডিজিটাল উন্নয়নকে কেবল আরও বেশি নেটওয়ার্ক, আরও বেশি অ্যাপ, আরও বেশি রেজিস্ট্রেশন, আরও বেশি লেনদেনের ভাষায় চালিয়ে যেতে পারি। এতে সাফল্যের গল্প বলা সহজ, সংখ্যা দেখানো সহজ, প্রকল্প চালানো সহজ। কিন্তু তাতে যে প্রশ্নটি অমীমাংসিত থেকে যাবে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: এই ডিজিটাল বিস্তার আসলে কার ক্ষমতা বাড়াচ্ছে? যতদিন এই প্রশ্নের উত্তর নীতির কেন্দ্রে না আসবে, ততদিন বাংলাদেশে ডিজিটাল উন্নয়ন অনেককে সংযুক্ত করবে, কিন্তু সবাইকে সমানভাবে শক্তিশালী করবে না।

শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের ভাষা আর উন্নয়নের সত্য এক জিনিস নয়। সংযোগ বাড়তে পারে, কিন্তু ক্ষমতা না-ও বাড়তে পারে। ব্যবহার বাড়তে পারে, কিন্তু মর্যাদা না-ও বাড়তে পারে। অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে থাকতে পারে। কাজ মিলতে পারে, কিন্তু দরকষাকষির শক্তি কমে যেতে পারে। তাই এখন আর কেবল সংযোগের হিসাব যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের দরকার ক্ষমতার হিসাব। না হলে আমরা খুব দ্রুত ডিজিটাল হব, কিন্তু সেই গতিতেই বৈষম্যকে আরও আধুনিক, আরও শোভন, আরও স্থায়ী করে তুলব।                                     

লেখক পরিচিতি : এ এইচ এম. বজলুর রহমান, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, তথ্যের অখণ্ডতা ও ডিজিটাল গণতন্ত্রবিষয়ক নীতি-পরামর্শক, বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।