এআই অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে নিজেদের তৈরি নতুন চিপ ‘মাইয়া ৩০০’ আগামী মাসে উন্মোচন করতে পারে মাইক্রোসফট। এনভিডিয়ার চিপের ওপর নির্ভরতা কমাতে নিজেদের কাস্টম এআই চিপ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইয়া ৩০০ চিপ উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি বা টিএসএমসির সঙ্গে আলোচনা করছে মাইক্রোসফট।
২০২৭ সালে সরবরাহের জন্য ৩ লাখের বেশি মাইয়া ৩০০ চিপ তৈরির সক্ষমতা নিশ্চিত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘমেয়াদে এই সক্ষমতা ১০ লাখের বেশি চিপে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কত সংখ্যক চিপ উৎপাদন করা হবে, তা প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং টিএসএমসির উৎপাদন বরাদ্দের ওপর নির্ভর করবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অ্যাজিউর ডেটা সেন্টারে ব্যবহারের পরিকল্পনা
মাইক্রোসফট নিজেদের অ্যাজিউর ডেটা সেন্টারে মাইয়া ৩০০ ব্যবহারের পাশাপাশি বড় ক্লাউড গ্রাহকদের কাছেও চিপটি জনপ্রিয় করতে চাইছে।
এ জন্য এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছে মাইক্রোসফট। এসব প্রতিষ্ঠানের এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার কাজে মাইয়া ৩০০ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
দ্রুত এগোচ্ছে নিজস্ব চিপ তৈরির পরিকল্পনা
নিজস্ব এআই চিপ তৈরিতে গত কয়েক বছরে দ্রুত অগ্রগতি করেছে মাইক্রোসফট। ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম প্রজন্মের মাইয়া ১০০ চিপ উন্মোচন করে।
এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় প্রজন্মের মাইয়া ২০০ চিপ বাজারে আনে প্রতিষ্ঠানটি।
মাইয়া ২০০ তৈরি করা হয়েছে টিএসএমসির উন্নত ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে। এতে উচ্চ ঘনত্বের স্ট্যাটিক র্যান্ডম-অ্যাকসেস মেমোরি বা এসআরএএম ব্যবহার করা হয়েছে।
বিপুলসংখ্যক কথোপকথনভিত্তিক এআই অনুরোধ দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে এই মেমোরি প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এনভিডিয়ার সঙ্গে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
মাইক্রোসফট একা নয়, নিজেদের এআই চিপ তৈরিতে জোর দিচ্ছে আরও কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট এবং অ্যামাজনও নিজস্ব এআই চিপের ব্যবহার বাড়াচ্ছে।
গুগলের টেনসর প্রসেসিং ইউনিট (টিপিইউ) এবং অ্যামাজনের ট্রেনিয়াম চিপের বাণিজ্যিক ব্যবহারও বাড়ছে।
ফলে এআই চিপের বাজারে এনভিডিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নিজেদের চিপ তৈরি করে এই বাজারে খরচ, সরবরাহ ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে চাইছে প্রতিষ্ঠানগুলো।








০ টি মন্তব্য