https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

মানসিক চাপ কমাতে সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করার পরামর্শ জেফ বেজোসের

মানসিক চাপ কমাতে সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করার পরামর্শ জেফ বেজোসের মানসিক চাপ কমাতে সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করার পরামর্শ জেফ বেজোসের
 

কাজের চাপ ও নানা দায়িত্বের কারণে দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মতে, শুধু অতিরিক্ত কাজই সব সময় মানসিক চাপের মূল কারণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো সমস্যা নিয়ে বারবার চিন্তা করলেও, সেটি সমাধানের জন্য কোনো পদক্ষেপ না নিলে চাপ আরও বাড়তে পারে।

২০০১ সালে একাডেমি অব অ্যাচিভমেন্ট সামিটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেফ বেজোস বলেন, কঠোর পরিশ্রম করলেই মানসিক চাপ তৈরি হবে—বিষয়টি এমন নয়। বরং যে সমস্যার সমাধানে কিছু করা সম্ভব, সেটি এড়িয়ে যাওয়া বা শুধু চিন্তা করে সময় কাটানোই অনেক সময় দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাঁর মতে, কর্মক্ষেত্রে কোনো বিষয় নিয়ে অস্বস্তি বা চাপ অনুভব হলে প্রথমেই সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। এরপর সমাধানের পথে ছোট একটি পদক্ষেপ নিতে হবে। সেটি হতে পারে কাউকে ফোন করা, একটি ই–মেইল পাঠানো কিংবা সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা।

২০১৭ সালে সিয়াটলের মিউজিয়াম অব ফ্লাইটে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে একই বিষয়ে কথা বলেন বেজোস। কঠিন সময়ে কী তাঁকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোনো বিষয় নিয়ে চাপ অনুভব করলে তিনি ভাবেন, সেই সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট কিছু করছেন কি না।

বেজোসের মতে, একটি সমস্যার পুরো সমাধান একদিনেই করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। গুরুত্বপূর্ণ হলো সমাধানের দিকে যাত্রা শুরু করা। ছোট একটি পদক্ষেপও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অনুভূতি তৈরি করতে পারে এবং ধীরে ধীরে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

কঠিন সমস্যা মোকাবিলায় অন্যদের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। কয়েকজন মিলে একটি সমস্যার সমাধানে কাজ করলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে। ফলে যে বিষয়টি শুরুতে দুশ্চিন্তার কারণ ছিল, সেটিই পরে দলগতভাবে সমাধান খোঁজার একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতায় পরিণত হতে পারে।

কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ সামলানো নিয়ে প্রযুক্তি খাতের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে শুধু ভারসাম্য নয়, বরং দুটির মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, জীবনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সঙ্গে কাজের সমন্বয় ঘটাতে পারলে দৈনন্দিন চাপ সামলানো সহজ হতে পারে।

অন্যদিকে, স্টারবাকসের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লক্ষ্মণ নরসিমহান নিয়মিত রুটিন, ব্যক্তিগত সময় এবং শরীরচর্চাকে গুরুত্ব দেন। ধ্যান তাঁকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে সাহায্য করে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা এবং কাজের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রযুক্তি খাতের নেতাদের অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়া বা শুধু দুশ্চিন্তা করে সময় কাটানোর পরিবর্তে সমাধানের জন্য ছোট হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কারণ, অনেক সময় সমস্যার সমাধানের প্রথম পদক্ষেপটিই মানসিক চাপ কমানোর শুরু হতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।