https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

আঞ্চলিক যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট : ডিজিটাল অধিকার

আঞ্চলিক যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট : ডিজিটাল অধিকার আঞ্চলিক যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট : ডিজিটাল অধিকার
 

যুদ্ধ মানেই চোখের সামনে ধ্বংসস্তূপ, ধোঁয়া, আগুন, শরণার্থী, লাশ, আর্তনাদ। আমরা যুদ্ধকে সাধারণত দেখি আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের রেখা, বিধ্বস্ত বাড়িঘর, হাসপাতালে আহত মানুষের ভিড়, কিংবা সীমান্তজুড়ে সামরিক উত্তেজনার ছবিতে। কিন্তু ২০২৬ সালের এই আঞ্চলিক সংকট আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধের আরেকটি ফ্রন্ট আছে, যা চোখে কম দেখা যায়, কিন্তু আঘাত হানে মানুষের জীবনযাত্রার গভীরে। সেটি হলো ডিজিটাল অঙ্গন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই বোঝা গেছে, যুদ্ধ এখন শুধু মাটির ওপর নয়, ডেটার ভেতরও লড়া হচ্ছে। বোমা পড়ছে শহরে, কিন্তু কাঁপছে সার্ভারও। মানুষ ঘর হারাচ্ছে, একই সঙ্গে হারাচ্ছে যোগাযোগের পথ। শরণার্থী শিবিরে যেমন নিরাপত্তাহীনতা, তেমনি অনলাইনেও ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রতারণা, ভুয়া জরিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর প্রচার। যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানা তাই আর কেবল ভৌগোলিক নয়, ডিজিটালও।

ইসরায়েলের নির্বিচার বোমাবর্ষণে দক্ষিণ লেবানন, বৈরুত ও বেকা থেকে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সামরিক সংঘাতের অভিঘাত ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে। বিভিন্ন রাজধানীতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এসেছে। এই বৃহৎ সংঘাতের ভেতরেই নতুনভাবে সামনে এসেছে কিছু কঠিন প্রশ্ন। যুদ্ধের সময় কারা তথ্য নিয়ন্ত্রণ করবে? কোন অবকাঠামো বেসামরিক, আর কোনটি সামরিক? নাগরিকের যোগাযোগের অধিকার কোথায় দাঁড়াবে? আর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কি কেবল ব্যবসায়ী, নাকি যুদ্ধেরও নীরব অংশীদার?

ডেটা সেন্টার আর নিরীহ নয়

গত সপ্তাহে অ্যামাজন জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে তাদের তিনটি AWS ডেটা সেন্টার ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং, ই-কমার্স, ভোক্তাসেবা থেকে শুরু করে নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিঘ্ন দেখা দেয়। সাধারণভাবে কোনো ডেটা সেন্টারে আঘাত মানে প্রযুক্তিগত সমস্যা মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক গভীর সংকেত বহন করে।

আজকের বিশ্বে ডেটা সেন্টার শুধু অনলাইন সেবার পেছনের নীরব যন্ত্র নয়। এগুলো একেকটি কৌশলগত স্থাপনা। একটি দেশের আর্থিক লেনদেন, ই-গভর্ন্যান্স, ক্লাউড-ভিত্তিক ব্যবসা, গণমাধ্যম, যোগাযোগ, এমনকি জননিরাপত্তা সম্পর্কিত বহু সেবা এগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে যুদ্ধের সময়ে এগুলো আর “নিরপেক্ষ” অবকাঠামো থাকে না। যদি একই প্ল্যাটফর্ম বেসামরিক অর্থনীতি চালায়, আবার কোনোভাবে সামরিক সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত থাকে, তাহলে সেটি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে সময় লাগে না।

এই বাস্তবতা একটি অস্বস্তিকর সত্য সামনে আনে। আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামোকে আমরা যতই দৈনন্দিন জীবনের অংশ ভাবি না কেন, ভূরাজনীতির চোখে তা শক্তির অংশ। ব্যাংকিং অ্যাপ কাজ না করা, অনলাইন কেনাকাটা বন্ধ হওয়া বা ডিজিটাল সেবায় ব্যাঘাত কেবল প্রযুক্তিগত বিপর্যয় নয়, এটি একধরনের সামাজিক অস্থিতিশীলতা। শহর যখন বোমায় কাঁপে, তখন নাগরিকের ভরসার শেষ জায়গাগুলোর একটি হয়ে ওঠে ফোন, ইন্টারনেট, ডিজিটাল ব্যাংকিং, ম্যাপ, বার্তা আদান-প্রদান। সেই অবকাঠামো আঘাতপ্রাপ্ত হলে যুদ্ধের অভিঘাত বহুগুণ বেড়ে যায়।

অনলাইনে অদৃশ্য যুদ্ধ

লেবাননের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের নাম ও চেহারা ব্যবহার করে এআই-নির্ভর স্পন্সরড বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিজ্ঞাপনে নিরপেক্ষতা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এটি হয়তো রাজনৈতিক প্রচারণা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অনেক বেশি বিপজ্জনক।

কারণ, এটি কেবল মতপ্রকাশ নয়, পরিচয় ভেজাল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি এসব প্রচার সাধারণ নাগরিককে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অবস্থান, রাজনৈতিক বৈধতা এবং জনমতের ভেতরে কৃত্রিম দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। যুদ্ধের সময় মানুষের মন এমনিতেই ভীত, অনিশ্চিত ও সংবেদনশীল থাকে। সেই মুহূর্তে ভুয়া অথচ বিশ্বাসযোগ্য দেখানো বার্তা দ্রুত কাজ করে। বিশেষত যদি তা আসে পরিচিত মুখ, ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা সরকারি ভাষার অনুকরণে।

এখানে বড় বিপদটি শুধু বিভ্রান্তি নয়, আস্থার ক্ষয়। মানুষ যখন বুঝতে পারে না কোন বার্তা সত্য, কোনটি কৃত্রিম, কোনটি প্রচারণা, তখন তারা ধীরে ধীরে সব কিছুকেই সন্দেহ করতে শুরু করে। এই অবিশ্বাস গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি দুর্বল করে, যুদ্ধবিধ্বস্ত সমাজে তা আরও গভীর ক্ষত তৈরি করে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভুয়া জরিপের বিস্তার। যুদ্ধ সম্পর্কে মানুষের মতামত জানতে চেয়ে কিছু জরিপ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কিছু ছিল সন্দেহজনক। কোথাও সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কোথাও তথ্য সংগ্রহের আড়ালে মানুষকে টার্গেট করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ ও বিপর্যয়ের সময় এ ধরনের কৌশল নতুন নয়। ক্ষুধার্ত, বাস্তুচ্যুত, উদ্বিগ্ন মানুষ সহজেই এমন বার্তায় সাড়া দেয়, কারণ তাদের সামনে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ কম, প্রয়োজন বেশি।

বাস্তুচ্যুত মানুষ, অনলাইনে নতুন শিকার

যুদ্ধের সবচেয়ে দৃশ্যমান শিকার বাস্তুচ্যুত মানুষ। কিন্তু আজকের বাস্তুচ্যুতি শুধু ভৌগোলিক নয়, ডিজিটালও। যখন মানুষ তড়িঘড়ি করে ঘর ছেড়ে পালায়, তারা সঙ্গে নেয় কিছু কাপড়, নথি, ফোন, আর যোগাযোগের প্রয়োজন। এই ফোনই তখন আশ্রয়ের খবর দেয়, আত্মীয়ের অবস্থান জানায়, ব্যাংকে টাকা আছে কি না বলে, রুট ম্যাপ দেখায়, সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করায়। ফলে ফোন হারানো, সিম অকার্যকর হওয়া, ইন্টারনেট না থাকা, কিংবা প্রতারণার ফাঁদে পড়া যুদ্ধের নতুন মাত্রা হয়ে উঠেছে।

লেবাননে অনেক বাসিন্দা হুমকিমূলক ফোনকল ও সরিয়ে নেওয়ার বার্তা পেয়েছেন। সংকটের সময়ে এমন বার্তা সত্যিও হতে পারে, আবার প্রতারণামূলকও হতে পারে। এই অনিশ্চয়তাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। ধরুন, কেউ একটি বার্তা পেলেন যে নির্দিষ্ট এলাকায় দ্রুত চলে যেতে হবে, বা অনুদান পেতে একটি ফরম পূরণ করতে হবে, বা আশ্রয় পেতে লিংকে ক্লিক করতে হবে। যুদ্ধের মুহূর্তে তিনি সেটি যাচাই করবেন কীভাবে? মানুষের ভয়ের ওপর দাঁড়িয়ে অনলাইন প্রতারণা তখন আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো তাই সতর্ক করছে, সংকটের সময় যে কোনো অচেনা লিংক, ফরম, কল বা আর্থিক অনুরোধ সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। কিন্তু এখানেও একটি বৈপরীত্য আছে। যাদের সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা প্রয়োজন, তারাই সাধারণত সবচেয়ে কম ডিজিটাল নিরাপত্তা জ্ঞান নিয়ে এই অবস্থায় পড়েন। ফলে ডিজিটাল সাক্ষরতা এখন আর শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, একে জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না।

ইন্টারনেট বন্ধ মানে শুধু নেট না থাকা নয়

ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার খবর এসেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সেখানে নাগরিকরা মূলত সরকার-অনুমোদিত সীমিত কিছু সেবাই ব্যবহার করতে পারছেন। এই ধরনের ইন্টারনেট বন্ধ অনেক রাষ্ট্র আগেও করেছে, কিন্তু যুদ্ধের সময় এর প্রভাব ভয়াবহতর।

কিছু সরকার যুক্তি দেয়, জাতীয় নিরাপত্তা, গুজব নিয়ন্ত্রণ বা শত্রুপক্ষের কার্যক্রম ঠেকাতেই ইন্টারনেট সীমিত করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইন্টারনেট বন্ধ হলে প্রথম আঘাত পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তারা পরিবার-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না, নিরাপদ আশ্রয়ের খবর পায় না, হাসপাতাল বা জরুরি সহায়তার তথ্য জানতে পারে না। অনেকে আর্থিক লেনদেন করতে পারে না, কেউ কাজ করতে পারে না, কেউ সন্তানের খোঁজও পায় না।

আরেকটি বড় ক্ষতি হয় তথ্যপ্রবাহে। যুদ্ধের সময় স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নাগরিক-সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কে কোথায় হামলা চালাল, কোথায় বেসামরিক মানুষ আটকা পড়েছে, কোথায় মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, কোন হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হলো, এসব তথ্য অনেক সময় প্রথম আসে মাঠের মানুষের মোবাইল ভিডিও, কল, লোকেশন ডেটা বা বার্তার মাধ্যমে। ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে শুধু নাগরিকই নীরব হয় না, যুদ্ধের দলিলও অন্ধকারে চলে যায়।

এই জায়গায় ডিজিটাল অধিকার সরাসরি মানবাধিকারের সঙ্গে মিশে যায়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, যোগাযোগের অধিকার, নিরাপত্তার অধিকার সব একসঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যুদ্ধের সময় ইন্টারনেট বন্ধ তাই “প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ” নয়, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যার মানবিক মূল্য অত্যন্ত বেশি।

ভুল তথ্য দমন নাকি নিয়ন্ত্রণের নতুন অজুহাত

উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ যুদ্ধ ঘিরে গুজব ও ভুল তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত হামলার স্থানের ছবি বা ভিডিও ছড়ানো নিয়ে সতর্ক করেছে। এআই দিয়ে ভুয়া ছবি বা কনটেন্ট তৈরি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে। কাতার ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ৩১৩ জনকে আটক করেছে। বাহরাইন ও কুয়েতও অনুরূপ ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রথম দৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপ যুক্তিসংগত মনে হতে পারে। যুদ্ধের সময় গুজব ভয় ছড়ায়, আতঙ্ক বাড়ায়, এমনকি নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জটিল করে তুলতে পারে। কিন্তু এখানেই একটি সূক্ষ্ম প্রশ্ন আছে: ভুল তথ্য দমন আর মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের সীমারেখা কোথায়?

অনেক কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রই অতীতে “জাতীয় স্বার্থ”, “সাইবার নিরাপত্তা” বা “ভুল তথ্য প্রতিরোধ” এর নামে সমালোচনাকারী নাগরিক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী মতের মানুষকে দমন করেছে। ফলে যুদ্ধের সময় নেওয়া এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, বাস্তবে রাষ্ট্র কখনো সত্যিকারের বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে যায়, আবার কখনো অস্বস্তিকর সত্যের বিরুদ্ধেও যায়।

যখন মানুষ হামলার ছবি পোস্ট করতে ভয় পায়, সাংবাদিক মাঠের তথ্য প্রকাশ করতে দ্বিধা করে, বা সাধারণ নাগরিক সমালোচনা জানাতে গিয়েও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় থাকে, তখন নিরাপত্তা আর স্বাধীনতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। যুদ্ধকালীন পরিবেশে এই ভারসাম্য আরও সহজে ভেঙে পড়ে।

প্রযুক্তির নৈতিকতা এখন আর তাত্ত্বিক প্রশ্ন নয়

এই পুরো সংকট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ক্লাউড অবকাঠামো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা, ডেটা সেবা, এআই টুল, এসব কি কেবল নিরপেক্ষ প্রযুক্তি? নাকি এগুলো যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে? যদি কোনো অবকাঠামো একদিকে লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবন চালায়, অন্যদিকে সামরিক ব্যবস্থারও সহায়ক হয়, তবে সেটি কি কেবল বেসরকারি সেবা হিসেবে দেখা যাবে?

প্রযুক্তির সামরিকীকরণ নিয়ে যে উদ্বেগ আগে নীতিগত আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা বাস্তব ঝুঁকি হিসেবে হাজির। ডেটা সেন্টারে হামলা, এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর প্রচার, নজরদারি, প্ল্যাটফর্মের পক্ষপাত, কনটেন্ট নামিয়ে না নেওয়া, আবার কোথাও অতিরিক্ত কনটেন্ট দমন, সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, প্রযুক্তি আর নিরীহ পরিকাঠামো নয়। এটি ক্ষমতার অংশ, এবং সেই কারণেই জবাবদিহিরও অংশ।

যুদ্ধের সময় ডিজিটাল অধিকার কেন বিলাসিতা নয়

অনেক সময় মনে করা হয়, যুদ্ধের সময় প্রধান প্রশ্ন হলো জীবন বাঁচানো, খাবার, পানি, আশ্রয়, চিকিৎসা। ডিজিটাল অধিকার তখন নাকি গৌণ বিষয়। কিন্তু বর্তমান সংকট দেখাচ্ছে, এই ধারণা ভুল। কারণ যোগাযোগের অধিকার ছাড়া আশ্রয়ের তথ্য মেলে না। নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। গোপনীয়তা রক্ষা না হলে বাস্তুচ্যুত মানুষ আরও ঝুঁকিতে পড়ে। অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে না পারলে সংকট দ্বিগুণ হয়। আর স্বাধীন তথ্যপ্রবাহ না থাকলে যুদ্ধের নথি, দায়বদ্ধতা, সত্য সবকিছুই দুর্বল হয়ে পড়ে।

ডিজিটাল অধিকার তাই বিলাসিতা নয়, সংকটকালে এটি বেঁচে থাকার অবকাঠামোর অংশ। একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধক্ষেত্রে পানি, ওষুধ, আশ্রয়, বিদ্যুতের মতোই জরুরি হয়ে উঠেছে সংযোগ, তথ্য, ডেটা নিরাপত্তা ও অনলাইন বিশ্বাসযোগ্যতা।

মধ্যপ্রাচ্যের এই আঞ্চলিক সংঘাত সেই কথাটিই আবার স্পষ্ট করে দিল। যুদ্ধ এখন শুধু সীমান্তে হয় না, সার্ভার রুমেও হয়। শুধু বন্দুক দিয়ে নয়, অ্যালগরিদম দিয়েও হয়। শুধু মানুষকে তাড়িয়ে নয়, তাদের নীরব করেও হয়। আর তাই যুদ্ধের সময় ডিজিটাল অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি মানবাধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের প্রশ্ন থেকে আলাদা নয়, বরং তারই অংশ।                                                                                                                                                                                                                                 

লেখক পরিচিতি : এ এইচ এম. বজলুর রহমান, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, তথ্যের অখণ্ডতা ও ডিজিটাল গণতন্ত্রবিষয়ক নীতি-পরামর্শক, বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।