https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

ডাটার নতুন ভূরাজনীতি বেইজিংয়ের WDO কি বৈশ্বিক ডাটা শাসনে ভারসাম্য আনবে, নাকি প্রভাবের নতুন কেন্দ্র গড়বে?

ডাটার নতুন ভূরাজনীতি বেইজিংয়ের WDO কি বৈশ্বিক ডাটা শাসনে ভারসাম্য আনবে, নাকি প্রভাবের নতুন কেন্দ্র গড়বে? ডাটার নতুন ভূরাজনীতি বেইজিংয়ের WDO কি বৈশ্বিক ডাটা শাসনে ভারসাম্য আনবে, নাকি প্রভাবের নতুন কেন্দ্র গড়বে?
 

৩০ মার্চ বেইজিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ওয়ার্ল্ড ডাটা অর্গানাইজেশন (WDO)। সংস্থাটি বলছে, তারা বৈশ্বিক ডাটা উন্নয়ন, ডাটা ব্যবহার এবং ডাটা গভর্ন্যান্স নিয়ে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠাকালেই এর সঙ্গে ৪০টির বেশি দেশের ২০০-র বেশি সদস্য যুক্ত হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই দিনে জিনহুয়া লিখেছে, প্রথম সাধারণ সভায় সংস্থার সনদ গৃহীত হয়েছে, প্রথম কাউন্সিল ও সুপারভাইজরি বোর্ড নির্বাচন করা হয়েছে, এবং আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। ঘটনাটি তাই নিছক আরেকটি সংস্থার উদ্বোধন নয়; বরং এটিকে বৈশ্বিক ডাটা রাজনীতির নতুন ইশারা হিসেবেও পড়া যায়। 

কারণ, আজকের পৃথিবীতে ডাটা আর কেবল তথ্য নয়। ডাটা এখন অর্থনীতি, প্রশাসন, বাণিজ্য, জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমনকি ভূরাজনীতিরও উপাদান। কে কত ডাটা সংগ্রহ করছে, কে তা বিশ্লেষণ করছে, কে সেই ডাটা থেকে মূল্য তৈরি করছে, আর কে শুধু কাঁচামাল জোগাচ্ছে, এই প্রশ্নগুলোর ভেতরেই এখন ক্ষমতার নতুন ব্যাকরণ লেখা হচ্ছে। ফলে ডাটা নিয়ে কাজ করবে এমন কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের জন্ম মানে, সেটি কেবল প্রযুক্তির খবর নয়; সেটি ক্ষমতার খবর, নীতির খবর, ভবিষ্যতের খবর।

WDO-এর পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হলো, বিশ্বে সত্যিই একটি গভীর ডাটা ও ডিজিটাল বৈষম্য আছে। ইউএনসিটিএডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে digitally deliverable services উন্নত অর্থনীতিতে মোট সেবা রপ্তানির ৬০ শতাংশের বেশি ছিল। উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে সেই হার ৪৪ শতাংশ, আর স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে মাত্র ১৫ শতাংশ। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলো মোট ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল সেবা রপ্তানি করলেও সেটি বৈশ্বিক মোটের এক-পঞ্চমাংশেরও কম। 

একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথে ডিজিটাল খাতের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ মাত্র ১০টি দেশে কেন্দ্রীভূত। অর্থাৎ, ডিজিটাল অর্থনীতির দরজা খোলা হলেও তার করিডর এখনো খুব সংকীর্ণ, আর লাভের সিংহভাগ যাচ্ছে অল্প কয়েকটি শক্তিধর অর্থনীতি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে। 

এই বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে WDO-এর ভাষা আকর্ষণীয় শোনায়। তারা বলছে, বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন ডাটা নীতির মধ্যে থাকা বাধা কমানো, শিল্পক্ষেত্রে ঐকমত্য তৈরি, এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের compliance cost কমাতে তারা ভূমিকা রাখতে চায়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জ্বালানির মতো খাতে ডাটার বাস্তব ব্যবহার বাড়িয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও শিল্প-উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করার কথাও বলছে। এই ভাষা শুনলে মনে হয়, তারা এক ধরনের ডাটা-কূটনীতি গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নীতির জটিলতা কমবে, আন্তঃসীমান্ত প্রবাহ সহজ হবে, আর উন্নয়নশীল দেশগুলোও হয়তো বেশি সুযোগ পাবে। 

সমস্যা হলো, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সুন্দর ভাষা আর নিরপেক্ষ বাস্তবতা এক জিনিস নয়। “বাধা কমানো” শুনতে ইতিবাচক, কিন্তু কোন বাধা? গোপনীয়তা রক্ষা? ডাটা সুরক্ষা? জাতীয় সার্বভৌমত্ব? নাকি ব্যবসার ওপর বিধিনিষেধ? “কমপ্লায়েন্স কস্ট কমানো”ও ভালো শোনায়, কিন্তু সে খরচ কমবে কার? বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের? আর তার বিনিময়ে কার সুরক্ষা শিথিল হবে? নাগরিকের? ছোট অর্থনীতির? দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার? এখানেই WDO-কে বিশ্লেষণ করতে হয় শুধু ঘোষণাপত্র দিয়ে নয়, বরং ক্ষমতার বাস্তবতা দিয়ে।

কারণ WDO-এর জন্ম এমন এক সময়ে, যখন চীন নিজেকে শুধু ডিজিটাল অবকাঠামোর শক্তিধর দেশ হিসেবেই নয়, প্রযুক্তি-শাসনের নিয়ম-নির্ধারক হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে চীনে ৪.৮৩৮ মিলিয়ন ৫জি বেস স্টেশন ছিল। প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ৩৪.৪টি ৫জি বেস স্টেশন দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে ১.২০৪ বিলিয়ন ৫জি সাবস্ক্রিপশন এবং ৯ লাখ ৩৮ হাজার ডেটা সেন্টার র্যাক তিনটি বড় টেলিকম অপারেটরের অধীনে ছিল। এই পরিসংখ্যান শুধু অবকাঠামোগত শক্তির কথা বলে না; এগুলো বলে, চীন এখন ডিজিটাল স্থাপত্যের প্রান্তিক খেলোয়াড় নয়, কেন্দ্রীয় খেলোয়াড়। 

এখানে কেউ বলতে পারেন, বড় অবকাঠামো থাকলেই কি বৈশ্বিক নিয়ম লেখার নৈতিক অধিকার পাওয়া যায়? অবশ্যই না। কিন্তু বাস্তব বিশ্বে নৈতিকতার আগে সক্ষমতা কাজ করে। যাদের অবকাঠামো আছে, যাদের বাজার আছে, যাদের প্রযুক্তি আছে, তারাই শেষ পর্যন্ত মানদণ্ড-নির্ধারণী আলোচনায় বাড়তি আসন পায়। সেই অর্থে WDO-কে দুইভাবে পড়া যায়। এক, এটি সত্যিই বৈশ্বিক ডাটা সহযোগিতার জন্য দরকারি একটি নতুন মঞ্চ। দুই, এটি চীনের ডিজিটাল প্রভাব বাড়ানোর একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম। এই দুই পাঠ পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একই সঙ্গে সত্যও হতে পারে।

আসলে WDO-র আসল পরীক্ষা হবে তার গভর্ন্যান্স কাঠামোতে। সদস্য বেশি হওয়া এক জিনিস, সিদ্ধান্তে সমান কণ্ঠ পাওয়া আরেক জিনিস। ৪০টির বেশি দেশের ২০০-র বেশি সদস্য থাকলেই সংস্থাটি বহুপাক্ষিক হয়ে যায় না। প্রশ্ন হলো, কে এজেন্ডা ঠিক করবে? কারা মানদণ্ড লিখবে? উন্নয়নশীল দেশগুলো কি নিয়ম তৈরির টেবিলে সমান অবস্থান পাবে, নাকি তারা কেবল “ক্ষমতা বৃদ্ধির” আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে থাকবে? বিশ্ববিদ্যালয়, কোম্পানি, থিংক ট্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উপস্থিতি যেমন বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দেয়, তেমনি করপোরেট প্রভাব, রাষ্ট্রীয় প্রভাব এবং নীতিগত পক্ষপাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয় না। 

আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক ডাটা শাসনে সত্যিই এক ধরনের শূন্যতা আছে। ইউএনসিটিএডি বলছে, তাদের ডাটা গভর্ন্যান্স-সংক্রান্ত কাজের ভিত্তিতেই জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো Commission on Science and Technology for Development-এর অধীনে একটি working group গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি নতুন নয়, আর শাসন-সংকটও কল্পিত নয়। ডিজিটাল রূপান্তর যত দ্রুত হচ্ছে, তার ন্যায্যতা, নিরাপত্তা, আন্তঃসীমান্ত ব্যবহার, এবং উন্নয়নগত ফল বণ্টনের প্রশ্নগুলোও তত তীব্র হচ্ছে। ফলে WDO-এর মতো নতুন ফোরামের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না। 

কিন্তু প্রয়োজনীয়তা আর বিশ্বাসযোগ্যতা এক কথা নয়। WDO যদি সত্যিই ডাটা-বৈষম্য কমাতে চায়, তাহলে তাকে তিনটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রথমত, ক্ষমতা-ভাগাভাগির পরীক্ষা: গ্লোবাল সাউথকে কি সে শুধু সহায়তার গ্রহীতা হিসেবে দেখবে, নাকি নিয়ম-নির্ধারক অংশীদার হিসেবেও জায়গা দেবে? দ্বিতীয়ত, অধিকার-সুরক্ষার পরীক্ষা: ডাটা প্রবাহ সহজ করার নামে কি গোপনীয়তা, জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকার দুর্বল হবে, নাকি সেগুলো শক্তিশালী হবে? তৃতীয়ত, স্বচ্ছতার পরীক্ষা: সিদ্ধান্ত কীভাবে হবে, কে প্রভাব ফেলবে, কোন স্বার্থ কোথায় কাজ করবে, তা কি পরিষ্কার থাকবে? এই প্রশ্নগুলোর জবাব যদি অস্পষ্ট থাকে, তবে “বিশ্ব ডাটা সংস্থা” নামটি আস্থার চেয়ে আশঙ্কাই বেশি জাগাবে।

এই জায়গায় একটি অস্বস্তিকর কিন্তু দরকারি সত্য বলা জরুরি। পশ্চিমা আধিপত্যের বিকল্প মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যায়সঙ্গত বিকল্প নয়। বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে, কিন্তু নতুন কেন্দ্র মানেই নতুন ন্যায় নয়। শুধু ওয়াশিংটনের বদলে বেইজিং, বা সিলিকন ভ্যালির বদলে অন্য প্রযুক্তিকেন্দ্র, এই বদলকে আমরা যদি চোখ বন্ধ করে বহুপাক্ষিকতা বলে ধরে নিই, তাহলে ভুল করব। ক্ষমতার ভাষা অনেক সময় অন্তর্ভুক্তির শব্দ ধার করে কথা বলে। তাই “গ্লোবাল সাউথ”, “সমতা”, “উন্মুক্ততা”, “সহযোগিতা” এসব শব্দ যতই আকর্ষণীয় হোক, শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে কারা আছে।

বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এখানকার শিক্ষা খুব পরিষ্কার। ডাটার ভবিষ্যৎ শুধু সার্ভার, ক্লাউড বা কানেক্টিভিটির প্রশ্ন নয়; এটি ডাটা সার্বভৌমত্ব, নীতিগত সক্ষমতা, দর-কষাকষির শক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার প্রশ্ন। আমরা যদি শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করি কিন্তু নিয়ম তৈরির আলোচনায় না থাকি, তাহলে অন্যরা আমাদের হয়ে ভবিষ্যৎ লিখবে। আমরা যদি শুধু ডাটা উৎপাদন করি কিন্তু মূল্য সংযোজন, স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ, আন্তঃসীমান্ত প্রবাহ, এবং অধিকার-সুরক্ষার প্রশ্নে নিজের অবস্থান গড়ে না তুলি, তাহলে ডিজিটাল উন্নয়নও আসলে নির্ভরতার নতুন রূপ হবে।

এই কারণেই WDO-কে ঘিরে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত neither naive nor dismissive। অন্ধ উচ্ছ্বাস নয়, আগাম নাকচও নয়। বরং দরকার কৌশলী আগ্রহ। নতুন প্ল্যাটফর্ম খুললে তাতে ঢুকতে হবে, কিন্তু প্রশ্নহীন ভরসা নিয়ে নয়। আলোচনায় যেতে হবে, কিন্তু নিজের স্বার্থ, অধিকার এবং সক্ষমতার হিসাব মাথায় রেখে। গ্লোবাল সাউথের নামে গড়ে ওঠা প্রতিটি মঞ্চই গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষা করবে, এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় গ্যারান্টি নেই।

তাই বেইজিংয়ের WDO-কে এখনই নায়ক বানানো যেমন তাড়াহুড়া হবে, তেমনি একে নিছক প্রচারণা বলে উড়িয়ে দেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এটি সম্ভাবনারও মঞ্চ, আবার প্রভাবেরও মঞ্চ। এটি সহযোগিতার ভাষাও বলতে পারে, আবার নতুন কেন্দ্রীয়তার ব্যাকরণও লিখতে পারে। বিচারটা হবে পরে, কাজের ভিত্তিতে। কিন্তু প্রস্তুতিটা নিতে হবে এখনই।

কারণ, ডাটার পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন প্রযুক্তির নয়, কর্তৃত্বের। সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি সংযোগের নয়, ন্যায্য অংশীদারিত্বের। আর সবচেয়ে বড় লড়াই অবকাঠামোর নয়, শাসনের। WDO যদি সত্যিই বৈষম্য কমায়, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিয়ম লেখার টেবিলে বসায়, এবং ডাটা-শাসনকে আরও ন্যায্য করে, তবে তাকে স্বাগত জানাতে দ্বিধা নেই। 

কিন্তু যদি এটি কেবল পুরোনো শক্তির বদলে নতুন শক্তির প্রভাববলয় গড়ার আরেকটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে, তবে সেই প্রশ্ন তোলাও জরুরি। কারণ, ভবিষ্যৎ শুধু কে কত ডাটা জমা করল, তা দিয়ে ঠিক হবে না; ঠিক হবে, সেই ডাটার নিয়ম কে লিখল, আর কারা সেই টেবিলে অনুপস্থিত রইল।

লেখক পরিচিতি : এ এইচ এম. বজলুর রহমান, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, তথ্যের অখণ্ডতা ও ডিজিটাল গণতন্ত্রবিষয়ক নীতি-পরামর্শক, বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।