শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে চীনের প্রথম পুঁজিবাজারভুক্ত হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা কোম্পানি হতে যাচ্ছে ইউনিট্রি। সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) জন্য প্রতি শেয়ারের দাম ১৫০ দশমিক ৮ ইউয়ান নির্ধারণ করেছে হ্যাংঝৌভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে রোবট প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চায় ইউনিট্রি। তালিকাভুক্তির মাধ্যমে চীনের মূল ভূখণ্ডের শেয়ারবাজারে প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
যেভাবে পরিচিতি পেল ইউনিট্রি
প্রকৌশলী ওয়াং সিংসিংয়ের হাত ধরে ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে ইউনিট্রি। শুরুতে তুলনামূলক কম দামের চার পা বিশিষ্ট রোবট বা ‘রোবট ডগ’ তৈরি করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় কোম্পানিটি।
পরবর্তীতে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে মনোযোগ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ইউনিট্রির ‘জি১’, ‘এইচ১’ ও ‘আর১’ মডেলের রোবট দৌড়ানো, নাচ এবং মার্শাল আর্ট প্রদর্শনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
বর্তমানে টেসলা, বোস্টন ডায়নামিক্সসহ বিভিন্ন রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে ইউনিট্রি। তাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে এমন রোবট তৈরি করা, যা মানুষের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি শিল্পকারখানাতেও ব্যবহার করা যাবে।
আয় ও মুনাফায় বড় অগ্রগতি
হিউম্যানয়েড রোবট শিল্পে এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকলেও ইউনিট্রি এরই মধ্যে লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির আয় চার গুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ২৫ কোটি ২০ লাখ ডলারে পৌঁছায়।
একই সময়ে ইউনিট্রির সমন্বিত নিট মুনাফা ছিল প্রায় ৮ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। কোম্পানির নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে বিদেশি বাজার থেকে তাদের মোট বিক্রির ৪০ শতাংশেরও বেশি এসেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট্রি
মোটর, সেন্সর, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক রোবট তৈরি করছে ইউনিট্রি। এর মাধ্যমে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে চীনের কম খরচের উৎপাদন সক্ষমতাও সামনে এসেছে।
একই সঙ্গে বাস্তব জগতে চলাফেরা ও বিভিন্ন কাজ করতে সক্ষম এআইচালিত যন্ত্র বা ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তিতে চীনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টারও প্রতীক হয়ে উঠেছে কোম্পানিটি।
তবে ইউনিট্রির বাণিজ্যিক সাফল্য এখনই প্রমাণ করে না যে হিউম্যানয়েড রোবট মানুষের বিকল্প হিসেবে কাজ করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
বর্তমানে এসব রোবটের বড় একটি বাজার হচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা ও প্রদর্শনী প্রকল্প। মানুষের সরাসরি সহায়তা ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে জটিল ও ভিন্ন ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবটের সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা এখনো সীমিত।
কেন শেয়ারবাজারে যাচ্ছে রোবট নির্মাতারা
হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যাপক বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হওয়ার আগেই প্রযুক্তি উন্নয়ন, প্রকৌশলী নিয়োগ, প্রশিক্ষণের ডেটা সংগ্রহ, এআই মডেল তৈরি এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে।
এ কারণে সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছে চীনের রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
এরই মধ্যে ‘কুয়াভো’ মডেলের হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা লেজু রোবোটিক্স মে মাসে শেনঝেনের চি নেক্সট বাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন করেছে।
অন্যদিকে, সাংহাইভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা এজিবটও জুলাইয়ে হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে আইপিওর প্রস্তুতি শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, চীনের হিউম্যানয়েড রোবট শিল্প এখন গবেষণাগার ও প্রদর্শনী থেকে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক বাজারের দিকে এগোচ্ছে। ইউনিট্রির শেয়ারবাজারে প্রবেশ সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।










০ টি মন্তব্য