https://powerinai.com/

সাম্প্রতিক খবর

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আগেই মিলতে পারে শক্তিশালী হওয়ার সংকেত

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আগেই মিলতে পারে শক্তিশালী হওয়ার সংকেত ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আগেই মিলতে পারে শক্তিশালী হওয়ার সংকেত
 

সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ভয়ংকর রূপ নেওয়ার প্রায় এক দিন আগেই সেটি দ্রুত শক্তিশালী হতে যাচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার নতুন একটি পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এই পদ্ধতি কার্যকর হলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের আগাম প্রস্তুতির জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যাবে।

মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)-এর ‘হারিকেন হান্টার’ উড়োজাহাজ থেকে দীর্ঘ ২৮ বছরে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এই সম্ভাবনা পেয়েছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শক্তিশালী হওয়ার আগে একটি ঘূর্ণিঝড়ের কাঠামোয় নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তন ঘটে।

ঘূর্ণিঝড়ের ‘সোজা হয়ে দাঁড়ানো’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র সাধারণত একে অপরের ওপর সোজা অবস্থানে থাকলে ঝড়টি শক্তিশালী হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু ওপরের স্তরের শক্তিশালী বাতাসের কারণে ঝড়ের বিভিন্ন অংশ একদিকে সরে গেলে পুরো কাঠামোটি হেলে পড়ে। আবহাওয়াবিদেরা এই অবস্থাকে ‘টিল্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই হেলে পড়ার অন্যতম কারণ হলো ভার্টিক্যাল উইন্ড শিয়ার—বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উচ্চতায় বাতাসের গতি বা দিকের পরিবর্তন। অতিরিক্ত হেলে থাকা ঝড় সাধারণত দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করতে পারে না। তবে বিভিন্ন স্তর আবার একই উল্লম্ব রেখায় চলে এলে ঝড়টির শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

চারটি বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা

ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি ও NOAA-এর গবেষকেরা এমন চারটি বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো ঘূর্ণিঝড়কে পুনরায় সোজা হয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে।

এ ধরনের ঝড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত ঘূর্ণন বলয় দেখা যায়। পাশাপাশি ঝড়ের নিচের কেন্দ্রের কাছে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ এবং ব্যাপক বৃষ্টিপাতও লক্ষ্য করা যায়।

ঝড়ের আশপাশের পরিবেশও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। উষ্ণ সমুদ্রের পানি, পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প এবং বায়ুমণ্ডলের মধ্যস্তরে তুলনামূলক শান্ত বাতাস ঝড়ের শক্তিশালী হয়ে ওঠার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

২৮ বছরের তথ্য থেকে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

গবেষণায় ১৯৯৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২৮টি হারিকেন মৌসুমে NOAA-এর হারিকেন হান্টার উড়োজাহাজ থেকে সংগ্রহ করা ১ হাজার ৫১০টি রাডার বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, যেসব ঝড় শেষ পর্যন্ত দ্রুত শক্তিশালী হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে প্রায় এক দিন আগেই কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি শক্তিশালী বজ্রঝড় এবং সুসংগঠিত বায়ুপ্রবাহ লক্ষ্য করা যায়।

আগাম সতর্কবার্তায় কাজে আসতে পারে গবেষণা

গবেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় বজ্রঝড়ের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ ঝড়ের হেলে থাকা অংশকে ধীরে ধীরে সোজা অবস্থায় আনতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে ঝড়টি দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার আগেই এসব পরিবর্তন শনাক্ত করা গেলে পূর্বাভাস আরও কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে।

বিশেষ করে ‘র‍্যাপিড ইনটেনসিফিকেশন’ বা অল্প সময়ের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঘটনা পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ এ ধরনের দ্রুত শক্তিশালী হওয়া ঝড়ের ক্ষেত্রে উপকূলীয় মানুষের প্রস্তুতির সময় খুবই সীমিত থাকে।

পূর্বাভাস প্রযুক্তিতেও মিলতে পারে সুবিধা

হারিকেন হান্টার উড়োজাহাজের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া তথ্য আবহাওয়াবিদদের বাস্তব সময়ের তথ্য দিতে পারে। একই সঙ্গে এসব তথ্য কম্পিউটারভিত্তিক আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল পরীক্ষা ও আরও উন্নত করতেও ব্যবহার করা সম্ভব।

গবেষকদের মতে, একটি ঝড় ভয়াবহ মাত্রায় শক্তিশালী হওয়ার মাত্র এক দিন আগেও যদি নির্ভরযোগ্য সংকেত পাওয়া যায়, সেটিও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। এতে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা এবং অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যেতে পারে।








০ টি মন্তব্য



মতামত দিন

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার মতামতটি দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।







পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? পুনরায় রিসেট করুন






রিভিউ

আপনি লগ ইন অবস্থায় নেই।
আপনার রিভিউ দেওয়ার জন্য লগ ইন করুন। যদি রেজিষ্ট্রেশন করা না থাকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করুন।