মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চালকদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার অভিযোগে বড় ধরনের জরিমানার মুখে পড়েছে রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সুরক্ষা আইনের (জিডিপিআর) নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ৮২ কোটি ৪৯ লাখ ইউরো, যা প্রায় ৯৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের সমান, জরিমানা করেছে নেদারল্যান্ডসের ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
ডাচ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে চালকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে তাঁদের আয়ের পথ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানবিক পর্যালোচনার সুযোগ না থাকায় উবার জিডিপিআর লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৭১ চালকের অভিযোগ থেকে তদন্ত
ঘটনার সূত্রপাত ফ্রান্সের ১৭১ জন উবার চালকের অভিযোগের মাধ্যমে। স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংগঠনের কাছে তাঁরা নিজেদের সমস্যার কথা জানান। পরে উবারের ইউরোপীয় সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে হওয়ায় বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব নেয় দেশটির ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ এপি।
ডাচ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার ব্যবস্থা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যার কারণে একজন মানুষের জীবিকা মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগেও জরিমানার মুখে পড়েছে উবার
জিডিপিআর সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও উবারকে জরিমানা করেছে ডাচ কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ৬ লাখ ইউরো এবং ২০২৩ সালে ১ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ইউরোপীয় চালকদের ব্যক্তিগত তথ্য বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের অভিযোগে ২০২৪ সালে উবারকে ২৯ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয়। সেটিই এতদিন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরোপিত সবচেয়ে বড় জরিমানা ছিল।
এবারই সবচেয়ে বড় শাস্তি
নতুন করে আরোপ করা ৮২ কোটি ৪৯ লাখ ইউরোর জরিমানাটি উবারের ওপর এখন পর্যন্ত আরোপিত সবচেয়ে বড় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। ডাচ ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোম্পানির বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান অনুসরণ করেই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে উবার
বড় অঙ্কের এই জরিমানার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল করেছে উবার। তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
এই ঘটনা কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবহারে মানবিক পর্যালোচনার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে কোনো প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত সরাসরি মানুষের চাকরি বা আয়ের ওপর প্রভাব ফেললে সেখানে স্বচ্ছতা, ব্যাখ্যার সুযোগ এবং মানবিক হস্তক্ষেপ কতটা প্রয়োজন—উবারের ঘটনাটি সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে।








০ টি মন্তব্য